টেলএন্ডারদের লড়াইয়ে ডারউইন টেস্টে চাপে অস্ট্রেলিয়া
- 1
তানজিদের সেঞ্চুরিতে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ
- 2
স্টার্কের বলে ২ রান, দারুণ ফিফটিতে মিরাজ—বাংলাদেশের লিড ২০০ পার!
- 3
নিউজিল্যান্ডও সরে দাঁড়াল ইনফান্তিনোর পাশ থেকে, দাবি স্বাধীন তদন্তের
- 4
জাভির হাতে নেদারল্যান্ডস, ৪৮ বছর পর বিদেশি কোচ
- 5
ডারউইনে বাংলাদেশের দাপট, ৮ উইকেট হাতে রেখেই লিড নাজমুলদের

টেলএন্ডারদের লড়াইয়ে ডারউইন টেস্টে চাপে অস্ট্রেলিয়া
টেলএন্ডারদের লড়াইয়ে ডারউইন টেস্টে চাপে অস্ট্রেলিয়া
ডারউইন টেস্ট চতুর্থ দিনে গড়াবে কি না, তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে সেটিই হয়ে উঠেছিল বড় প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিন নিশ্চিত হয়েছে। তবে পঞ্চম দিনে ম্যাচ যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই দিনের খেলা শেষ করেছেন দর্শকেরা। বরং বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বলছে, চতুর্থ দিনেই ম্যাচের ফল বের করে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—চতুর্থ দিনে যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ব্যাট করে লিড নেওয়া এবং ম্যাচটিকে পঞ্চম দিনে টেনে নেওয়া।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। টেলএন্ডারদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে বাংলাদেশ পেয়েছে ২২৮ রানের লিড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটিই বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে করা ৪২৭ রান এখনো সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের লিড ২০৬ ছাড়ানোর পরই অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইতিহাসের কঠিন এক চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে যায়। ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে থেকেও কোনো টেস্ট জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনে জয় পেতে হলে নিজেদের ইতিহাসের সেই রেকর্ডই বদলাতে হবে তাদের।
তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য সেই কাজ আরও কঠিন করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ নতুন বল হাতেও দুর্দান্ত শুরু এনে দেন বাংলাদেশকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করার পর ১১তম ওভারে ট্রাভিস হেডকেও ফেরান তিনি। কাট করতে গিয়ে শরীরের কাছাকাছি থাকা বল স্টাম্পে টেনে আনেন হেড।
মাত্র ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মারনাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজনের জুটি ৩৬ রান পর্যন্ত এগোয়। তবে ২০তম ওভারের শেষ বলে তাইজুল ইসলাম ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনকে বোল্ড করে সেই জুটি ভেঙে দেন।
এরপর স্মিথও বেশিক্ষণ টেকেননি। ৪৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন তিনি। ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পরই ডারউইনের প্রেসবক্সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—অস্ট্রেলিয়া কি চতুর্থ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে?
শেষ পর্যন্ত অবশ্য আর কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকেরা। সেখানে ভাগ্যও পাশে ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ক্যামেরন গ্রিনের স্টাম্পে তাসকিন আহমেদের একটি বল সরাসরি আঘাত করলেও বেলস পড়েনি। বলটি স্টাম্পে লেগে বাউন্ডারির দিকেও চলে যায়। সেই সৌভাগ্য নিয়েই দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে ডারউইন টেস্টকে এই অবস্থানে নিয়ে আসার বড় কৃতিত্ব বাংলাদেশের টেলএন্ডারদের। মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসকে কেন্দ্র করে আগের দিনের অপরাজিত হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় মাঠে রেখেছেন।
মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ৩০৮। এরপর মিরাজকে সঙ্গ দিয়ে টেলএন্ডাররা অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫২.৩ ওভার। যোগ হয়েছে ১১৮ রান, যার ৭৫ রানই এসেছে তৃতীয় দিনে।
জুটিগুলোর হিসাবও বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তা স্পষ্ট করে। সপ্তম উইকেটে মিরাজ ও হাসান যোগ করেন ৪৬ রান। অষ্টম উইকেটে মিরাজ ও তাইজুলের জুটি থেকে আসে ১৮ রান। নবম উইকেটে মিরাজ-তাসকিন ৪ রান এবং শেষ উইকেটে তাসকিন-ইবাদত যোগ করেন আরও ৮ রান।
ইবাদতের ছক্কাটিও ছিল আলাদা করে মনে রাখার মতো। নাথান লায়নকে স্লগ সুইপ করে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান তিনি। হাসান মাহমুদও ১৪ রান করতে খেলেছেন ৯২ বল—যা অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ধৈর্যের বড় পরীক্ষা নিয়েছে।
এর আগে মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটের জুটিতে হাসান, পরে তাইজুল ও তাসকিন যেভাবে ব্যাট করেছেন, তাতে অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্স খুব একটা সমস্যা তৈরি করতে পারেনি। তাইজুল ২৩ বলে ১৭ রান করেছেন একটি চার ও একটি ছক্কায়। তাসকিন ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রান করেন দুই বাউন্ডারিতে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য হতাশার মাত্রা আরও বেড়েছে ক্যাচ মিসে। প্রথম সেশনেই তিনটি ক্যাচ ফেলেছে তারা, যার দুটি একই ওভারে। টেলএন্ডারদের দীর্ঘ ব্যাটিংয়ের সঙ্গে এই সুযোগ নষ্ট করাও বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ।
সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনের বড় গল্প বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটসম্যানদের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ। আর সেই প্রতিরোধের ফলেই এখন অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাটিতে এমন এক ম্যাচে দাঁড়িয়ে, যেখানে চতুর্থ দিনেই হার এড়ানোর লড়াই করতে হবে তাদের।














