হাসানের প্রশংসায় ওয়ার্নার-মার্ক ওয়াহ, ‘এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই’

হাসানের প্রশংসায় ওয়ার্নার-মার্ক ওয়াহ, ‘এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই’
হাসানের প্রশংসায় ওয়ার্নার-মার্ক ওয়াহ, ‘এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই’
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়াম যেন প্রথম দিনেই হাসান মাহমুদের নামে লেখা হয়ে গেল। দুই দশকেরও বেশি সময় পর উত্তর অস্ট্রেলিয়ার এই শহরে ফিরেছে টেস্ট ক্রিকেট। আর সেই প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার—৫৫ রানে ৬ উইকেট।
হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৯৮ রানে। দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশও ব্যাট হাতে ভালো শুরু করেছে। ২৪ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা চাপ তৈরি করেন। লাঞ্চের আগেই জ্যাক ওয়েদারাল্ড, মারনাস লাবুশেন ও ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন তারা। একপর্যায়ে ৪ উইকেটে ৭০ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর।
স্টিভ স্মিথও একাধিকবার জীবন পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকেও ফেরান হাসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের টেস্ট অভিষেকেই ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার।
মাঠ ছাড়ার সময় হাসানের পারফরম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। কায়ো স্পোর্টসকে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই খুব মুগ্ধ হয়েছি। সে সঠিক জায়গায় বল করে গেছে। একজন বোলারের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার থাকে বলে আমার মনে হয় না। তরুণ এই খেলোয়াড়ের অসাধারণ একটি পারফরম্যান্স ছিল।”
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ও ধারাভাষ্যকার মার্ক ওয়াহও। নাহিদ রানা না থাকা সত্ত্বেও তিন পেসার যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছেন, সেটিকে তিনি দলগত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখছেন।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের পেসাররা যেভাবে ধারাবাহিকভাবে লাইন ও লেংথ ধরে রেখেছেন, সেটিই মার্ক ওয়াহর চোখে ছিল সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেটার ও সদ্য ধারাভাষ্যকার হিসেবে অভিষিক্ত অ্যালিসা হিলিও। নাহিদ রানা ও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বোলার না থাকায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে শুরুতে প্রশ্ন থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্স সেই সংশয় দূর করেছে বলে মনে করেন তিনি।
হিলির ভাষায়, “বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের শক্তি সম্পর্কে আমরা আগেই ভালো ধারণা পেয়েছিলাম। নাহিদ রানা না থাকায় এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বোলারকে না পাওয়ায় আমরা ভাবছিলাম তাদের বোলিং আক্রমণ আসলে কেমন হবে।”
তবে হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্স তাঁর প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
হিলি বলেন, “একজন তরুণ খেলোয়াড়, যার ক্যারিয়ারও এখনো শুরুর দিকে, সে যেভাবে এসে বোলিং করেছে—বিশেষ করে যেভাবে অস্ট্রেলিয়ান ঘরানার বোলিং করেছে এবং অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানকে প্রতিটি বল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, সেটি ছিল সত্যিই দারুণ পেশাদার পারফরম্যান্স। তার এমন পারফরম্যান্স অবশ্যই প্রাপ্য ছিল।”
ডারউইনের প্রথম দিন শেষে তাই শুধু বাংলাদেশের স্কোরকার্ডেই নয়, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকাদের প্রশংসাতেও সবচেয়ে উজ্জ্বল নামটি—হাসান মাহমুদ।











