শেষ মুহূর্তের ‘মার’ এস্পির, রিয়ালকে জেতালেন ৯০+১ মিনিটে
- 1
মেসির হেডে গোল, কাসেমিরোর জাদুতে ক্রুজ আজুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মায়ামি
- 2
রোহিত শর্মাকে নিয়ে সোফিয়া হায়াতের বিতর্কিত মন্তব্য, যা বললেন ভারতীয় তারকা
- 3
রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে রেসিংকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে বার্সেলোনার ছয় ম্যাচে ছয় জয়
- 4
রোনালদো-প্যালাসিওসের ঝামেলার নতুন পর্ব, এবার ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত আল নাসর
- 5
১৫ বছরের পথচলার ইতি, কলম্বিয়া দলে আর দেখা যাবে না হামেস রদ্রিগেজকে

শেষ মুহূর্তের ‘মার’ এস্পির, রিয়ালকে জেতালেন ৯০+১ মিনিটে
শেষ মুহূর্তের ‘মার’ এস্পির, রিয়ালকে জেতালেন ৯০+১ মিনিটে
কথায় আছে, ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে।’ কার্লোস এস্পির ক্ষেত্রেও কথাটা যেন দারুণভাবে মিলে যাচ্ছে। তবে রাত নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্ত—আর ‘মার’ বলতে গোল। শেষ সময়ে গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে জেতানো যেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের বিশেষত্বে পরিণত হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে লেভান্তের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ২১ বছর বয়সী এস্পি। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফরোয়ার্ডকে কোচ জোসে মরিনিওর ‘প্ল্যান বি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। মূল একাদশের খেলোয়াড়েরা গোল এনে দিতে ব্যর্থ হলে শেষ মুহূর্তে এস্পিকে মাঠে নামানো—এমন ভূমিকাই যেন পেয়েছেন তিনি।
আর সেই দায়িত্বে এখন পর্যন্ত বেশ সফলই এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
চার মিনিটেই বদলে দিলেন ম্যাচের ফল
গতকাল রাতে এলচের মাঠে লা লিগার ম্যাচেও তার প্রমাণ মিলেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল এবং এলচের আত্মঘাতী গোলে মাত্র ৩৩ মিনিটেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল।
কিন্তু ম্যাচের শেষদিকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ৭১ ও ৮৩ মিনিটে দুটি গোল করে সমতায় ফেরে এলচে। ফলে এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়ে রিয়াল।
বিপদ বুঝে ৮৭ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে তুলে এস্পিকে মাঠে নামান মরিনিও। আর মাত্র চার মিনিট পরই আসে কাঙ্ক্ষিত ফল। এমবাপ্পের পাস থেকে যোগ করা সময়ের ৯০+১ মিনিটে গোল করে রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন এস্পি।
অভিষেকেও শেষ মুহূর্তের নায়ক
শেষ সময়ে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে রিয়ালকে জেতানোর ঘটনা এস্পির জন্য নতুন নয়। রিয়ালে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হিসেবে ফেরার পর এসপানিওলের বিপক্ষে মরিনিওর প্রথম ম্যাচেও জয়সূচক গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
সেবারও ৯০ মিনিটে গোল করেছিলেন তিনি। আরও মজার বিষয়, সেটিই ছিল রিয়ালের জার্সিতে এস্পির অভিষেক ম্যাচ।
অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, চলতি লা লিগা মৌসুমে ৯০ মিনিট বা তার পর যোগ করা সময়ে দুটি জয়সূচক গোল করা প্রথম খেলোয়াড় এখন এস্পি।

লা লিগার ইতিহাসেও বিরল কীর্তি
শুধু চলতি মৌসুম নয়, লা লিগার ইতিহাসেও একটি বিশেষ জায়গায় উঠে এসেছেন এস্পি। দলের মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচের মধ্যে ৯০ মিনিট বা তার পর দুটি জয়সূচক গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় তিনি।
এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার আইওসে পেরেজ।
এস্পিকে নিয়ে খুশি মরিনিও, তবে চিন্তা অন্য জায়গায়
এলচে লা লিগার তুলনামূলক দুর্বল দল হওয়ায় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাননি মরিনিও। তাই এমবাপ্পের সঙ্গে এস্পিকে খেলাতে কৌশলে পরিবর্তন আনেন তিনি এবং শেষদিকে বেশ কিছু ঝুঁকিও নেন।
ম্যাচ শেষে এস্পির পারফরম্যান্স নিয়ে মরিনিও বলেন, ‘দারুণ উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নেমেছে সে। তবে তার সামনে এমন একজন খেলোয়াড় ছিল, যে সাধারণ কেউ নয়। তাদের দুজনকে একসঙ্গে খেলানো সহজ নয়।’
শেষদিকে নেওয়া ঝুঁকি সম্পর্কে রিয়াল কোচের ব্যাখ্যা, ‘ড্র আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না।’
প্রথম একাদশে এখনো নিয়মিত জায়গা পাননি এস্পি। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স কোচের জন্য নতুন একটি বিকল্প তৈরি করছে।
রিয়ালের বড় চিন্তা অবশ্য অন্য জায়গায়
এস্পির গোল রিয়ালকে জয় এনে দিলেও ম্যাচ শেষে মরিনিওর চিন্তা ছিল অন্য জায়গায়। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও কীভাবে দল দুটি গোল হজম করল, সেটিই ভাবাচ্ছে তাঁকে।
রিয়াল কোচ বলেন, ‘কিছু ম্যাচ দেখে মনে হয় যেন ফল ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বড় ব্যবধান গড়তে পারছি না। নিজেদের কাজটা শেষ না করায় সহজ ম্যাচগুলোই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’
তবে এই জয়ের ফলে অবনমনের আশঙ্কায় থাকা দলগুলোর বিপক্ষে লা লিগায় মরিনিওর অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকল।
ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে ১৫ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা, তবে হান্সি ফ্লিকের দলের ম্যাচ একটি কম এবং গোল ব্যবধানেও তারা এগিয়ে।












