Image

ব্যালন ডি’অর নিয়ে ইয়ামাল-এমবাপ্পের লড়াই, ফিরছে মেসি-রোনালদো যুগের উত্তাপ

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 4 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
ব্যালন ডি’অর নিয়ে ইয়ামাল-এমবাপ্পের লড়াই, ফিরছে মেসি-রোনালদো যুগের উত্তাপ

ব্যালন ডি’অর নিয়ে ইয়ামাল-এমবাপ্পের লড়াই, ফিরছে মেসি-রোনালদো যুগের উত্তাপ

ব্যালন ডি’অর নিয়ে ইয়ামাল-এমবাপ্পের লড়াই, ফিরছে মেসি-রোনালদো যুগের উত্তাপ

ব্যালন ডি’অর ট্রফি যদি কথা বলতে পারত, তাহলে হয়তো জনপ্রিয় এক বাংলা সিনেমার গানের সুরে প্রশ্ন তুলত—‘বিধি তুমি বলে দাও, আমি কার? দুটি মানুষ একটি ট্রফির দাবিদার।’

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সোনালি সময়ে ঠিক এমন পরিস্থিতিই দেখা যেত। ২০০৮ থেকে ২০১৭—এক দশক ধরে ব্যালন ডি’অরে ছিল এই দুই কিংবদন্তির একচ্ছত্র আধিপত্য। একজন পুরস্কার জিতলে অন্যজনের নাম থাকত আলোচনায়। সময়ের সঙ্গে সেই অধ্যায় শেষ হলেও এবার যেন পুরোনো সেই উত্তাপই ফিরতে শুরু করেছে।

কারণ, ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

নিজেদের দাবিতে সরব ইয়ামাল-এমবাপ্পে

এবারের ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। মনোনীতদের মধ্যে এমবাপ্পে, ইয়ামাল ও হ্যারি কেইন অন্যতম আলোচিত নাম। তবে কেইন যেখানে নিজের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানেই কথা বলছেন, সেখানে এমবাপ্পে ও ইয়ামাল নিজেদের দাবিও সরাসরি তুলে ধরেছেন।

প্রথমে মুখ খোলেন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি তারকা বলেন, বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। তাঁর মতে, ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দারুণ একটি বছর।

পরে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও নিজের দাবির কথা জানান এমবাপ্পে।

এরপরই পাল্টা বক্তব্য আসে ইয়ামালের কাছ থেকে।

‘এমবাপ্পে আর আমি বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়’

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুভিস্টার প্লাস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল নিজের দাবির পক্ষে বেশ আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দিয়েছেন।

বার্সেলোনার এই তরুণ তারকার মতে, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড় তিনি ও এমবাপ্পে। নিজের অর্জন ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় এবারের ব্যালন ডি’অর তাঁরই প্রাপ্য বলেও মনে করেন ইয়ামাল।

তাঁর বক্তব্যের সারকথা—যাঁরা নিয়মিত ম্যাচ দেখেছেন, তাঁরাও বুঝতে পারবেন কেন তিনি নিজেকে পুরস্কারের যোগ্য মনে করছেন।

এমবাপ্পের পক্ষে পরিসংখ্যান

এমবাপ্পের দাবিও যে একেবারে ভিত্তিহীন নয়, তা তাঁর পারফরম্যান্স দেখলেই বোঝা যায়। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর গোলসংখ্যা তাঁকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতায় পরিণত করেছে।

বিশ্বকাপের আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও দুর্দান্ত গোলস্কোরিং ফর্মে ছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। সতীর্থদের গোল করাতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ব্যক্তিগত সাফল্যে এগিয়ে থাকলেও দলীয়ভাবে রিয়াল মাদ্রিদের বড় কোনো শিরোপা না পাওয়াটা তাঁর দাবির পথে কিছুটা বাধা হতে পারে।

ইয়ামালের শক্তি দলীয় সাফল্য

অন্যদিকে গতবার ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হওয়া ইয়ামালও এবার নিজের দাবিকে আরও শক্ত করেছেন। স্পেনের হয়ে বড় মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

গত মৌসুমে বার্সার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্টও করেছেন এই তরুণ উইঙ্গার। বয়সের তুলনায় তাঁর ধারাবাহিকতা এবং বড় ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতাই তাঁকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম বড় দাবিদার করে তুলেছে।

কেইন-দেম্বেলেকেও ভুললে চলবে না

তবে লড়াইটা শুধু ইয়ামাল ও এমবাপ্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলেও আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর মতে, পিএসজির বড় দলীয় সাফল্যের কারণে এবারও ফরাসি ক্লাবের কোনো খেলোয়াড়ের হাতে ট্রফি ওঠা উচিত।

আর হ্যারি কেইনের পরিসংখ্যানও দুর্দান্ত। বুন্দেসলিগায় ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে গোলসংখ্যায় তাঁর ওপরে ছিলেন না কেউ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোল ৬৪টি। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে করেছেন ছয় গোল।

অর্থাৎ, ইয়ামাল-এমবাপ্পের পাশাপাশি কেইনের দাবিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।

কবে দেওয়া হবে ব্যালন ডি’অর?

এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেওয়া হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকেরা ভোট দেবেন।

ভোটে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য এবং খেলোয়াড়সুলভ আচরণ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি ভোটার তাঁদের পছন্দের সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকা তৈরি করেন এবং সেই অনুযায়ী পয়েন্ট দেওয়া হয়।

তাই শেষ পর্যন্ত ট্রফি কার হাতে উঠবে, সেটি নির্ধারণ করবে ভোটই। তবে তার আগেই ইয়ামাল ও এমবাপ্পে নিজেদের দাবির পক্ষে সরব হয়ে যাওয়ায় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে মেসি-রোনালদো যুগের সেই পুরোনো উত্তাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যালন ডি’অর ট্রফি

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three