Image

সময়ক্ষেপণ রুখতে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন নিয়ম, বদলাচ্ছে বদলি ও ভিএআর বিধিও

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সময়ক্ষেপণ রুখতে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন নিয়ম, বদলাচ্ছে বদলি ও ভিএআর বিধিও

সময়ক্ষেপণ রুখতে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন নিয়ম, বদলাচ্ছে বদলি ও ভিএআর বিধিও

সময়ক্ষেপণ রুখতে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন নিয়ম, বদলাচ্ছে বদলি ও ভিএআর বিধিও

শুরু হয়ে গেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নতুন মৌসুম। ২০২৬-২৭ মৌসুমে মাঠের খেলায় গতি বাড়াতে এবং অযথা সময়ক্ষেপণ কমাতে বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। বিশ্বকাপে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের পর এর কয়েকটি নিয়ম ইতোমধ্যে ইংলিশ ফুটবলেও কার্যকর হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে কারাবাও কাপের প্রথম রাউন্ডে নতুন নিয়মগুলোর প্রয়োগ কিছুটা বিভ্রান্তিরও জন্ম দিয়েছে।

নতুন নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য খেলোয়াড়দের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সময়ক্ষেপণের প্রবণতা কমিয়ে মাঠে বলের চলমান সময় বাড়ানো। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করে ফল ধরে রাখার কৌশল বা ‘ডার্ক আর্টস’ বন্ধ করতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে গড়ে বল মাঠে সচল ছিল ৫৮ মিনিট ৩ সেকেন্ড, যা মোট ম্যাচ সময়ের ৫৬.৮৬ শতাংশ। সর্বশেষ বিশ্বকাপে বল সচল থাকার সময় বেড়ে হয় ৫৮ মিনিট ১৬ সেকেন্ড। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময়ের পরিমাণ কমে যাওয়ায় মোট ম্যাচের ৬০.৪৩ শতাংশ সময় বল খেলার মধ্যে ছিল।

নতুন মৌসুমে আলোচিত নিয়মগুলো কীভাবে কাজ করবে, দেখে নেওয়া যাক—

১. গোল-কিক ও থ্রো-ইনে সময়ের হিসাব

খেলা পুনরায় শুরু করতে ইচ্ছাকৃত দেরি ঠেকাতে গোল-কিক ও থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে নতুন কাউন্টডাউন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। বল মাঠের বাইরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সময় গণনা শুরু হবে না। খেলা দ্রুত পুনরায় শুরু করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

২. বদলির ক্ষেত্রে ১০ সেকেন্ডের নিয়ম

সময়ক্ষেপণ বন্ধ করতে মাঠ থেকে উঠে যাওয়া খেলোয়াড়কে এখন যেকোনো কাছের সীমানা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে।

কোনো খেলোয়াড় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে, তাঁর বদলি হিসেবে নামার অপেক্ষায় থাকা খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ফলে ওই সময় দলটিকে ১০ জন নিয়েই খেলতে হবে।

তবে গুরুতর চোট, নিরাপত্তাজনিত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ থাকলে এই নিয়মে ছাড় পাওয়া যাবে।

৩. গোলকিপারের চোট দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ বন্ধ

গোলকিপারের চোটকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা ঠেকাতেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো গোলকিপার চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে মাঠে বসে পড়লে বা চিকিৎসা নিতে চাইলে, কোচের পছন্দের একজন ফিল্ড খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

চতুর্থ রেফারিকে কোন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়বেন, তা জানাতে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় পাওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ে জানানো না হলে দলের অধিনায়ককে মাঠ ছাড়তে হবে।

তবে গোলকিপার ফাউলের শিকার হলে কিংবা শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

৪. ভিএআরের ক্ষমতায় কিছু পরিবর্তন

নতুন মৌসুমে ভিএআরের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে।

দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড:কোনো খেলোয়াড় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে, সেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত ভিএআর পর্যালোচনা করতে পারবে। তবে সাধারণ হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যাবে না, যদি না পরিষ্কার কোনো ভুল হয়ে থাকে।

বল খেলার বাইরে থাকা অবস্থার আক্রমণাত্মক ফাউল:সেট-পিস নেওয়ার আগে এমন কোনো ফাউল হলে, যা সরাসরি গোল, পেনাল্টি বা অন্য শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, ভিএআর সেটি পর্যালোচনা করতে পারবে। এমন পরিস্থিতিতে খেলা পুনরায় শুরু করার জন্য কর্নার কিক পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

তবে ডিফেন্ডারের ফাউলের ক্ষেত্রে পেনাল্টি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় একইভাবে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিলে সংশোধনের সুযোগ

রেফারি ভুল করে কোনো খেলোয়াড়কে হ্যান্ডবলের জন্য শাস্তি দিলে, সঠিক খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

যেসব বিষয়ে পরিবর্তন নেই

বিশ্বকাপে পরীক্ষামূলকভাবে দেখা কিছু নিয়ম ইউরোপীয় ফুটবলে একইভাবে কার্যকর হচ্ছে না। ভুলভাবে নেওয়া কর্নার কিকের সিদ্ধান্ত কিংবা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে রাখা খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর মতো ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করবে না।

সব মিলিয়ে নতুন নিয়মগুলোর লক্ষ্য একটাই—ম্যাচে অযথা সময় নষ্টের সুযোগ কমানো এবং বলকে আরও বেশি সময় মাঠে সচল রাখা। তবে নিয়মগুলো কার্যকর হওয়ার পর খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের জন্য নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three