Image

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে চীনের চার ‘রেড লাইন’, তাইওয়ান নিয়ে কড়া বার্তা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 52 মিনিট আগে
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে চীনের চার ‘রেড লাইন’, তাইওয়ান নিয়ে কড়া বার্তা

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে চীনের চার ‘রেড লাইন’, তাইওয়ান নিয়ে কড়া বার্তা

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে চীনের চার ‘রেড লাইন’, তাইওয়ান নিয়ে কড়া বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ওয়াশিংটনকে নিজেদের চারটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং জানিয়েছেন, তাইওয়ান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, চীনের উন্নয়নের পথ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং উন্নয়নের অধিকার—এই চার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপ বেইজিং মেনে নেবে না।

শিয়ে ফেং ২৩ সেপ্টেম্বর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ লঙ্ঘন করা যাবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মতপার্থক্য মেটাতে পারস্পরিক সদিচ্ছা প্রয়োজন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতাই উভয় দেশের জন্য বেশি লাভজনক।

চীনের চার ‘রেড লাইন’ কী?

বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে যে চারটি বিষয়কে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. তাইওয়ান: চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। ফলে তাইওয়ানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক সহায়তা বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বেইজিংয়ের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।

২. গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বেইজিং।

৩. উন্নয়নের পথ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা: চীনের নিজস্ব রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কাঠামো পরিবর্তনের জন্য বাইরের চাপ গ্রহণ না করার অবস্থান জানিয়েছে বেইজিং।

৪. উন্নয়নের অধিকার: চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক চাপ বা অন্যান্য পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে চীন।

অর্থাৎ, শিয়ে ফেংয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ও মতপার্থক্য নিরসনের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে চীন নিজেদের মৌলিক স্বার্থ হিসেবে দেখছে।

বৈঠকের টেবিলে বাণিজ্যও বড় ইস্যু

তাইওয়ান ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কৌশলগত পণ্যের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

বিশেষ করে বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ খনিজ রপ্তানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব খনিজ আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক আলোচনায় চীনের রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে অস্থায়ী সমঝোতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। সেই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো যায় কি না, সেটিও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আলোচনায় উঠে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

একই সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে ঝুঁকিও বাড়ছে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি এআই-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

তাই এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

তাইওয়ান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ট্রাম্প-শি আলোচনায় সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি তাইওয়ান। চীন দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির কয়েকটি বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রভাবিত করার চেষ্টা বেইজিংয়ের আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। তবে এটি বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, দুই সরকারের ঘোষিত চুক্তি নয়।

১১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে শি

২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন শি জিনপিং। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এটি ছিল শির ১১ বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর।

২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে শির জন্য রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা আয়োজনের কথা রয়েছে। এরপর দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য, এআই, তাইওয়ান ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসার কথা।

এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রও বিশেষ আয়োজন করেছে। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে শিকে স্বাগত জানানোর ঘটনাটিকে বিরল কূটনৈতিক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংঘাত কমাতে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর

মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিভিন্ন বিশ্লেষক। বাণিজ্য থেকে প্রযুক্তি, তাইওয়ান থেকে নিরাপত্তা—একাধিক ইস্যুতে দুই দেশের স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেংও তাঁর বক্তব্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সহযোগিতা করলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে, আর সংঘাতে গেলে দুই পক্ষেরই ক্ষতি হবে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠক শুধু বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাইওয়ান, মানবাধিকার, চীনের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং এআই—এসব বিষয়ও দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three