ব্রিকস সম্মেলনে মোদি–সি বৈঠক: ২০২০-এর সংঘাত থেকে ভারত-চীন সম্পর্ক এখন কোথায়
- 1
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 2
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 3
আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ঘিরে ধরেছিলেন বিক্ষোভকারীরা
- 4
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’
- 5
১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন

ব্রিকস সম্মেলনে মোদি–সি বৈঠক: ২০২০-এর সংঘাত থেকে ভারত-চীন সম্পর্ক এখন কোথায়
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি–সি বৈঠক: ২০২০-এর সংঘাত থেকে ভারত-চীন সম্পর্ক এখন কোথায়
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় সাত বছর পর ভারতে সি চিন পিংয়ের সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাত্র কয়েক বছর আগেও ভারত-চীন সীমান্তে দুই দেশের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষে প্রাণহানির পর দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। তবে পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। এখন বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে।
তাহলে ২০২০ সালের সংঘাত থেকে বর্তমানের তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় কীভাবে পৌঁছাল ভারত ও চীন?
২০২০ সালে কী ঘটেছিল
হিমালয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ২০২০ সালের জুনে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ১৯৭৫ সালের পর সেটিই ছিল দুই দেশের সেনাদের মধ্যে প্রথম প্রাণঘাতী সংঘর্ষ।
সংঘর্ষের আগে সীমান্ত এলাকায় সামরিক অবকাঠামো ও অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। ভারতীয় সেনাদের অভিযোগ ছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে চীনা সেনারা এমন কিছু স্থাপনা তৈরি করছিল, যা ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত এলাকায় পড়ছে।
গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীন পরে চার সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে।
এই ঘটনার পর সীমান্তে বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে দুই দেশ। কয়েক বছর ধরে ভারত-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হয়ে ওঠে লাদাখের এই অচলাবস্থা।
প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটারের বিতর্কিত সীমান্ত
পরমাণু শক্তিধর ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তবে সীমান্তের বড় একটি অংশের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা এখনো দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
ফলে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ২০২০ সালের সংঘাত সেই পুরোনো সীমান্ত বিরোধকে আরও তীব্র করে তোলে।
২০২৪ সালে শুরু হয় উত্তেজনা কমানোর প্রক্রিয়া
দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারত ও চীন সীমান্তে সেনা প্রত্যাহার ও টহলসংক্রান্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।
এর আগে মুখোমুখি অবস্থানে থাকা কয়েকটি এলাকা থেকে দুই দেশই সেনা সরিয়ে নিয়েছিল। পরবর্তী সমঝোতার আওতায় বাকি বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোতেও সেনা প্রত্যাহার ও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
এর ফলে ২০২০ সালের সংঘাতের পর তৈরি হওয়া দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ না হলেও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়তে থাকে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে ভারত-চীন
সীমান্তে উত্তেজনা কমার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে দুই দেশ।
ভারত চীনের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করেছে। একই সঙ্গে চীনা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছু প্রশাসনিক বাধা কমানো হয়েছে এবং চীনা সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতাও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য আমদানির উৎস ছিল চীন। চীন থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার। এসব আমদানির মধ্যে ১০০টিরও বেশি পণ্য ভারতের শিল্প ও উৎপাদন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
অর্থাৎ সীমান্তে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও অর্থনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা এখনো অনেক বেশি।
তবে সীমান্তে সতর্কতা এখনো আছে
সম্পর্কে বরফ গললেও ভারত ও চীনের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়নি। সীমান্ত এলাকায় দুই দেশই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।
সীমান্ত বিরোধ, সামরিক অবকাঠামো, এলএসি নিয়ে মতপার্থক্য এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এখনো ভারত-চীন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
তাই বর্তমান সম্পর্ককে পুরোপুরি বন্ধুত্বপূর্ণ না বলে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা’—এই দুইয়ের সমন্বয় হিসেবে দেখা যায়।
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি–সির বৈঠক কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই প্রেক্ষাপটেই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও সি চিন পিংয়ের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
দুই নেতার আলোচনায় সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য, সরাসরি বিমান যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রায় সাত বছর পর সি চিন পিংয়ের ভারত সফরও প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালের সংঘাতের পর যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনায় আটকে ছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেখানে অন্তত স্থিতিশীলতার একটি নতুন পর্যায় দেখা যাচ্ছে।
তবে সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারত-চীন সম্পর্কের এই উন্নতিকে কতটা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে ২০২৪ সালের সেনা প্রত্যাহার এবং বর্তমানের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে ভারত ও চীনের সম্পর্ক এখন নতুন এক ভারসাম্যের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ব্রিকস সম্মেলনে মোদি–সির বৈঠক সেই সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।















