৮ গোলের রোমাঞ্চে সিটির জয়, ব্রোবির হ্যাটট্রিকের পরও জিতল ম্যানচেস্টার সিটি
- 1
রাফিনিয়ার টানা দুই হ্যাটট্রিক, সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সার জয়যাত্রা অব্যাহত
- 2
যুবরাজের সেই ছয় ছক্কা, ১৯ বছর পরও যে রেকর্ডের গল্প ফুরোয়নি
- 3
শুটিংয়ে ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট, ভারতের বিপক্ষে সিরিজে অনিশ্চিত রাচিন
- 4
এশিয়ান গেমসে নকভি ইস্যুতে নতুন সমীকরণ, কী করবে ভারত?
- 5
‘আমি ডাগআউটে থাকি বা না থাকি’—স্কালোনির কথায় কি আর্জেন্টিনায় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত?

৮ গোলের রোমাঞ্চে সিটির জয়, ব্রোবির হ্যাটট্রিকের পরও জিতল ম্যানচেস্টার সিটি
৮ গোলের রোমাঞ্চে সিটির জয়, ব্রোবির হ্যাটট্রিকের পরও জিতল ম্যানচেস্টার সিটি
ম্যানচেস্টার সিটি ৫–৩ সান্ডারল্যান্ড
ইতিহাদে গোলের বন্যা বইয়ে গেল। ম্যাচে আট গোল, প্রথমার্ধেই পাঁচবার জালের দেখা, সান্ডারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রায়ান ব্রোবির হ্যাটট্রিক এবং শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির জয়—সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের রাতটি ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর।
সান্ডারল্যান্ডকে ৫–৩ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ে লিগের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে তারা এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়েছে তিন পয়েন্টে।
শুরুতেই এগিয়ে সিটি, দ্রুত জবাব সান্ডারল্যান্ডের
ইতিহাদে ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সিটি। নবম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। সিটিতে যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল।
তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সিটি। এনজো লে ফির দুর্দান্ত পাস থেকে ব্রায়ান ব্রোবি গোল করে সান্ডারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান। এরপর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিটি। দারুণ এক শটে দলকে ফের এগিয়ে দেন আন্তোয়ান সেমেনিও। বিরতির সময় সিটি এগিয়ে ছিল, কিন্তু ম্যাচের নাটক তখনো শেষ হয়নি।
ব্রোবির হ্যাটট্রিকে জমে ওঠে ম্যাচ
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সিটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে খেললেও দ্রুতই ম্যাচে আবার উত্তেজনা ফিরে আসে। মার্ক গেহির পাস পেয়ে বাঁ পায়ের শটে দূরের কোণে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সেমেনিও। ব্যবধান বাড়িয়ে ৪–২ করে সিটি।
এরপর দুই মিনিটের ব্যবধানেই পাল্টা আঘাত সান্ডারল্যান্ডের। গ্রানিত শাকার পাস থেকে নিলসন অ্যাঙ্গুলো বল বাড়িয়ে দেন ব্রোবির দিকে। ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড।
স্কোরলাইন তখন ৪–৩। ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে সান্ডারল্যান্ড সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এমনকি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার ভুল থেকেও সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে রুবেন দিয়াজ দ্রুত পরিস্থিতি সামলে বিপদ কাটিয়ে দেন।
হলান্ডের গোলে স্বস্তি সিটির
৮১ মিনিটে শেষ পর্যন্ত সিটির স্বস্তি আসে। ইওস্কো গাভারদিওলের ক্রস থেকে আর্লিং হলান্ড বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৫–৩ করেন।
প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এই গোলের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে হলান্ড এমন এক কীর্তিও গড়েন, যেখানে তিনি প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হওয়া প্রতিটি দলের বিপক্ষেই গোল করার নজির স্থাপন করেন।
সান্ডারল্যান্ডের দারুণ লড়াই শেষ পর্যন্ত কোনো পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি। ব্রোবির তিন গোলও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।
ইসাকের গোলে লিভারপুলের জয়
বোর্নমাউথ ০–১ লিভারপুল
একই দিনে আরেক ম্যাচে বোর্নমাউথের মাঠ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে লিভারপুল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন আলেকসান্ডার ইসাক।
লিভারপুল ও বোর্নমাউথের ম্যাচটি সিটি-সান্ডারল্যান্ডের মতো গোলবন্যায় ভাসেনি। বরং দুই দলের লড়াই ছিল অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। শেষ পর্যন্ত ইসাকের একটি গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
গোলটি লিভারপুলকে শুধু জয়ই এনে দেয়নি, কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টও এনে দিয়েছে।
একদিকে আট গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডকে হারিয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল ম্যানচেস্টার সিটি, অন্যদিকে ইসাকের গোলে বোর্নমাউথকে হারিয়ে লিভারপুলও তুলে নিল গুরুত্বপূর্ণ জয়।













