‘আমি ডাগআউটে থাকি বা না থাকি’—স্কালোনির কথায় কি আর্জেন্টিনায় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত?
- 1
রোনালদোকে রেখেই নেশনস লিগের দল ঘোষণা পর্তুগালের
- 2
জিদানের প্রথম ফ্রান্স দলে পাঁচ নতুন মুখ, লিভারপুলের জেকে আলোচনায়
- 3
পোলার্ডের ১ রানের আক্ষেপ পেছনে ফেলে ১৫ হাজারি ক্লাবে বাটলার
- 4
রিজওয়ানের ফোন এখনো জব্দ, লাহোর হাইকোর্টে আবেদন খারিজের পর আইসিসিতে
- 5
জিদান যুগে ফ্রান্স দলে বড় পরিবর্তন, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কমছে

‘আমি ডাগআউটে থাকি বা না থাকি’—স্কালোনির কথায় কি আর্জেন্টিনায় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত?
‘আমি ডাগআউটে থাকি বা না থাকি’—স্কালোনির কথায় কি আর্জেন্টিনায় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত?
বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর প্রায় দুই মাস কেটে গেছে। মাঠের সেই হতাশা কিছুটা পেছনে ফেলে এখন নতুন বাস্তবতার দিকে তাকাচ্ছে আর্জেন্টিনা। আর সেই সময়েই নিজের ভবিষ্যৎ, দলের পরিবর্তন এবং লিওনেল মেসির বিদায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
চীনের সংবাদমাধ্যম ‘মিগু’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কালোনির কিছু মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আর্জেন্টিনার ডাগআউটে কি তিনি থাকছেন, নাকি শুরু হতে যাচ্ছে তাঁর উত্তরসূরির অধ্যায়?
বিশেষ করে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি আলোচনা—‘আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাব, আমি ডাগআউটে থাকি বা না থাকি। সেটা বড় কথা নয়।’
তবে পুরো সাক্ষাৎকারের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে এটিকে সরাসরি বিদায়ের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনায় রয়েছে ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তন—দুইয়ের সমন্বয়।
কাতারের পরও থামেনি আর্জেন্টিনার পথচলা
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে ছিল আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ—বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। স্কালোনি জানিয়েছেন, একের পর এক শিরোপা জয়ের পরও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পরবর্তী সময়টা সহজ হবে না।
তবু সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দল লড়াই চালিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও স্কালোনির কাছে সেটি ব্যর্থতার গল্প নয়।
তাঁর মতে, ফাইনালে হারলেও আর্জেন্টিনা নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করেছে। সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল জাতীয় দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক অটুট রাখা।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে ফাইনাল হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ষড়যন্ত্রের আলোচনা উঠলেও সেসবকে গুরুত্ব দিতে চান না স্কালোনি। তাঁর কাছে দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে অনেক বড়।
ফাইনালের পরও আর্জেন্টিনার মানুষ রানার্সআপ হওয়ার উদ্যাপনে রাস্তায় নেমেছিল—স্কালোনির চোখে সেটিই ছিল দলের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
এবার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন ছিল
কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের তুলনা করতে গিয়ে স্কালোনি জানিয়েছেন, এবার তাঁর দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
আগেরবার যেখানে দল প্রায় পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে খেলেছিল, এবার অনেক ফুটবলারকে শতভাগ ফিট না হয়েও মাঠে নামতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কোচ হিসেবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁকে।
তবে স্কালোনির কাছে খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল মানুষ হিসেবে তাদের প্রতি আস্থা।
গত আট বছর ধরে যারা জাতীয় দলের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন, তাদের ওপর বিশ্বাস রাখাটাকেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেন।
মেসির বিদায়, শুরু হবে নতুন অধ্যায়
আর্জেন্টিনার সামনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির বিদায়।
সামনের প্রীতি ম্যাচগুলোতে স্কালোনির অধীনেই শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে মেসিকে। এই মহাতারকার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করা কোচের কণ্ঠে তাই স্বাভাবিকভাবেই আবেগ।
স্কালোনির মতে, ২২-২৩ বছর বয়সের মেসি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার একজন ফুটবলার। তবে বয়স বাড়ার পরও তাঁর বিশেষত্ব হারায়নি।
মেসিকে ঘিরে এই অধ্যায় শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনাকে নতুন করে দল গড়তে হবে। আর স্কালোনি জানিয়েছেন, নতুনদের জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা থাকবে।
তরুণদের দিকে নজর স্কালোনির
মেসির পর কে নেতৃত্ব দেবেন, সেটি এখনই নির্দিষ্ট করে দিতে চান না স্কালোনি। তাঁর দর্শন পরিষ্কার—জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো চূড়ান্ত মানদণ্ড নয়।
ক্লাব ফুটবলে যে খেলোয়াড় যেমন পারফর্ম করবেন, সেই অনুযায়ী জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল দর্শনও ধরে রাখতে চান তিনি। কখনো আক্রমণাত্মক ফুটবল, কখনো বল দখলকে গুরুত্ব দেওয়া—পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলালেও দলের নিজস্ব পরিচয় যেন হারিয়ে না যায়, সেটিই তাঁর লক্ষ্য।
থাকবেন কি স্কালোনি?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্যই তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া তাঁকে ধরে রাখতে চান—এমন আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে।
স্কালোনির সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবশ্য সরাসরি বিদায়ের ঘোষণা নেই। বরং তাঁর কথায় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনার ইঙ্গিতই বেশি স্পষ্ট।
‘আমি ডাগআউটে থাকি বা না থাকি’—এই মন্তব্য তাই দুইভাবে দেখা যায়। এটি যেমন ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হতে পারে, তেমনি আর্জেন্টিনা দলকে ব্যক্তিনির্ভর না করে একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার দর্শনও হতে পারে।
মেসির বিদায়, একঝাঁক সিনিয়রের ভবিষ্যৎ এবং নতুন প্রজন্মের আগমন—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার সামনে যে নতুন অধ্যায় অপেক্ষা করছে, সেখানে স্কালোনি থাকবেন কি না, সেই উত্তর হয়তো মিলবে সময়ের সঙ্গেই।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—স্কালোনি থাকুন বা না থাকুন, তিনি যে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতি ও জাতীয় দলের সঙ্গে মানুষের আবেগের বন্ধনকে সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন, তাঁর বক্তব্যে সেটিই সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে।













