রাফিনিয়ার টানা দুই হ্যাটট্রিক, সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সার জয়যাত্রা অব্যাহত
- 1
রোনালদোকে রেখেই নেশনস লিগের দল ঘোষণা পর্তুগালের
- 2
জিদানের প্রথম ফ্রান্স দলে পাঁচ নতুন মুখ, লিভারপুলের জেকে আলোচনায়
- 3
পোলার্ডের ১ রানের আক্ষেপ পেছনে ফেলে ১৫ হাজারি ক্লাবে বাটলার
- 4
রিজওয়ানের ফোন এখনো জব্দ, লাহোর হাইকোর্টে আবেদন খারিজের পর আইসিসিতে
- 5
জিদান যুগে ফ্রান্স দলে বড় পরিবর্তন, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কমছে

রাফিনিয়ার টানা দুই হ্যাটট্রিক, সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সার জয়যাত্রা অব্যাহত
রাফিনিয়ার টানা দুই হ্যাটট্রিক, সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সার জয়যাত্রা অব্যাহত
সেভিয়া ১–৩ বার্সেলোনা
রাফিনিয়া যেন থামতেই চাইছেন না। চার দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে আবারও বার্সেলোনার জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেভিয়াকে ৩–১ গোলে হারিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতিতে গেল বার্সেলোনা।
চলতি মৌসুমে রাফিনিয়াকে শুধু উইঙ্গার হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। আক্রমণের কেন্দ্রে স্ট্রাইকার হিসেবেও নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করছেন তিনি। সেভিয়ার বিপক্ষে তাঁর তিন গোলেই ছিল একজন পরিপূর্ণ স্ট্রাইকারের দক্ষতার ছাপ।
শুরুতে ধাক্কা, দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াল বার্সা
নিজেদের মাঠে সেভিয়া শুরুটা করেছিল দারুণ। ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার হেড থেকে পাওয়া গোলে এগিয়েও যায় স্বাগতিকেরা।
তবে সেই গোলই যেন রাফিনিয়াকে জাগিয়ে দেয়। মাত্র তিন মিনিট পরই সমতা ফেরান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসনের ডিফেন্স-ভেদী পাস ধরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি।
গোলের পর সতীর্থ লামিনে ইয়ামালের তিন আঙুলের উদ্যাপনই যেন বলে দিচ্ছিল—রাফিনিয়ার সামনে তখনও আরও কিছু করার বাকি।
ইয়ামালের পাস, রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৫২ মিনিটে ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস থেকে রাফিনিয়া হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। সেভিয়ার দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বলটি এমন জায়গায় পৌঁছে দেন ইয়ামাল, যেখানে রাফিনিয়ার কাজ ছিল শুধু সঠিক সময়ে মাথা ছোঁয়ানো।
এরপর ৬৯ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত। ইয়ামালের ডিফেন্স-চেরা পাস ধরে বাঁ পায়ের চিপে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রাফিনিয়া। বলটি জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক।
আর এই হ্যাটট্রিকটি ছিল বিশেষ—ডান পা, বাঁ পা এবং হেডে গোল করে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করেন তিনি।
এর মাত্র চার দিন আগেই রেসিংয়ের বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন রাফিনিয়া। অর্থাৎ টানা দুই ম্যাচে তাঁর হ্যাটট্রিক—যা বার্সেলোনার আক্রমণভাগের বর্তমান শক্তিরও বড় প্রমাণ।
পরিসংখ্যানে রাফিনিয়ার অবিশ্বাস্য শুরু
চলতি মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচেই রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা এখন ১৪, সঙ্গে আছে তিনটি অ্যাসিস্ট। লা লিগায় সাত ম্যাচে তাঁর গোল ১২টি। এর মধ্যে চার ম্যাচেই করেছেন অন্তত দুটি করে গোল।
বার্সেলোনার ইতিহাসেও লা লিগার প্রথম সাত ম্যাচে এমন দুর্দান্ত সূচনা খুব বিরল। ক্লাবটির হয়ে এই সময়ে রাফিনিয়ার মতো শুরু করতে পেরেছিলেন শুধু মারিয়ানো মার্টিন—১৯৪৩-৪৪ মৌসুমে।
লা লিগার ইতিহাসে প্রথম সাত ম্যাচে রাফিনিয়ার চেয়ে বেশি গোল করার নজির আছে মাত্র দুজনের—১৯৪৩-৪৪ মৌসুমে ওভিয়েদোর এচেভেরিয়া ১৪ গোল এবং ২০১৪-১৫ মৌসুমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ১৩ গোল করেছিলেন।
বার্সেলোনার হয়ে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’-এর সর্বশেষ নজির ছিল লুইস সুয়ারেজের, ২০১৫ সালে। লিওনেল মেসি ক্লাবটির হয়ে ৩৬টি হ্যাটট্রিক করলেও তাঁর কোনোটি ছিল না ডান পা, বাঁ পা ও হেড—তিনভাবেই পূর্ণ করা ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’।
রাফিনিয়া এখন গোলের কেন্দ্রবিন্দু
মৌসুম শুরুর আগে রাফিনিয়াকে নিয়ে বড় গোলের প্রত্যাশা থাকলেও এত দ্রুত এমন ধারাবাহিকতা অনেকের কাছেই চমক। কিলিয়ান এমবাপ্পে সম্প্রতি দেম্বেলে ও রাফিনিয়ার চেয়ে নিজের গোলসংখ্যা বেশি হওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের এই পর্যায়ে রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা তাঁর চেয়েও বেশি।
শুধু গোলসংখ্যাই নয়, বার্সেলোনার আক্রমণে রাফিনিয়ার ভূমিকার পরিবর্তনও চোখে পড়ার মতো। ডান উইং থেকে বাঁ প্রান্ত—বিভিন্ন জায়গায় খেলার পর এবার তাঁকে স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করছেন কোচ। আর সেই ভূমিকাতেই যেন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
রাফিনিয়ার খেলার মধ্যে বক্সে জায়গা নেওয়া, দ্রুত সিদ্ধান্ত, দুই পায়েই ফিনিশিং এবং হেডে গোল করার দক্ষতা—সব মিলিয়ে তাঁকে মনে করিয়ে দিচ্ছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিওকে। ‘রাফিনিয়া দা লিমা’ নামটির পেছনের অনুপ্রেরণাটাও সেখানেই।
শীর্ষে বার্সেলোনা
সেভিয়াকে হারিয়ে সাত ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তাদের ব্যবধান ছয় পয়েন্ট।
তবে পয়েন্ট টেবিলের চেয়েও বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছেন রাফিনিয়া। মৌসুমের শুরুতেই গোল, অ্যাসিস্ট এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি প্রমাণ করছেন—উইঙ্গার থেকে স্ট্রাইকারে রূপান্তর শুধু কৌশলগত পরিবর্তন নয়, তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে।













