রিজওয়ান-ইমামকে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদ, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাড়ছে রহস্য
- 1
যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে সর্বকালের রেকর্ড, গ্রীষ্মে আয় ৪.৭৬ বিলিয়ন ডলার
- 2
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 3
অবশেষে ইনস্টাগ্রামে জেনিফার লরেন্স, মজার বায়োতে দিলেন চমক
- 4
চ্যাম্পিয়নস লিগেও পাঁচ গোলের ঝড়, ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু
- 5
তোরেসের হ্যাটট্রিকে পিএসজির ৫-১ জয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত শুরু

রিজওয়ান-ইমামকে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদ, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাড়ছে রহস্য
রিজওয়ান-ইমামকে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদ, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাড়ছে রহস্য
### শিরোনাম
**রিজওয়ান-ইমামকে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদ, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাড়ছে রহস্য**
ইংল্যান্ড সফর যেন পাকিস্তান ক্রিকেটকে আরও একবার টালমাটাল করে দিয়েছে। মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা বিতর্কও এখন ঘিরে ধরেছে দলটিকে। এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক।
পাকিস্তানের এই দুই ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি—এনসিসিআইএ। লাহোরে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম। দুজনকেই এনসিসিআইএর পক্ষ থেকে তলব করা হয়েছিল। ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন কয়েক ঘণ্টা সংস্থাটির কার্যালয়ে ছিলেন।
তবে ঠিক কী কারণে রিজওয়ান ও ইমামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পিসিবি জানিয়েছিল, শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতে তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। তবে তখন কোনো ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করা হয়নি। বোর্ড জানিয়েছিল, নিজেদের নিয়মকানুন মেনেই তদন্তটি পরিচালনা করা হবে।
ক্রিকইনফো আরও জানিয়েছে, অন্তত একজন ক্রিকেটারকে এনসিসিআইএ একটি প্রশ্নপত্র দিয়েছে। সেটির উত্তর দিয়ে আগামী সপ্তাহে সংস্থাটিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
### ইংল্যান্ড সফরে বড় ধাক্কা
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের শুরুটাই হয়েছিল বড় ব্যর্থতা দিয়ে। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে তারা হারে ইনিংস ও ১০৩ রানে। এরপর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টেও ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয় তাদের।
লর্ডস টেস্ট শেষ হওয়ার পরই দলে আসে বড় পরিবর্তন। সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তাঁদের জায়গায় ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় সাতজন নতুন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের তখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। সেই পাঁচজনের তিনজনই এজবাস্টনে সিরিজের শেষ টেস্টে অভিষেক করেন।
### রিজওয়ানের ব্যাটে রান নেই
ইংল্যান্ড সফরে ব্যাট হাতে রিজওয়ানের সময়টা মোটেও ভালো কাটছিল না। প্রথম দুই টেস্টের চার ইনিংসে তাঁর রান ছিল ১২, ৪১, ৭ ও ১।
এর আগের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও দুই টেস্টে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। অবশ্য উইকেটের পেছনে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন রিজওয়ান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগপর্যন্ত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন তিনি।
### ইমামের চোট নিয়েও প্রশ্ন
ইমাম-উল-হকের ঘটনা আবার কিছুটা ভিন্ন। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে তাঁর বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে গ্রেড-১ চোট ধরা পড়ে। এরপর পাকিস্তানের দুই ইনিংসের কোনোটিতেই মাঠে নামতে পারেননি তিনি।
তবে টেস্টের শেষ দিন সকালে ম্যাচের আগে অনুশীলনে নেমে হালকা নক করার চেষ্টা করেছিলেন ইমাম। সেখানেও শারীরিক সমস্যায় পড়েন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন পিসিবির প্রধান নির্বাচক ও হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ। জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
### নির্বাচকদের কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছিল পিসিবি
দল থেকে এত ক্রিকেটার বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুধু বাজে পারফরম্যান্সের কথা বলেননি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি জানিয়েছিলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পারফরম্যান্সের বাইরেও কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নাকভির ভাষায়, **‘এর কারণ খুঁজে বের করতে আমরা আলোচনা করেছি। এর মধ্যে পারফরম্যান্সের বাইরের বিষয়ও রয়েছে। আমরা বিষয়টির শেষ পর্যন্ত যাব।’**
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের দলে রিজওয়ান ও ইমামের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। লর্ডস টেস্টের পর নির্বাচকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠায় পিসিবি। দুজনকে দলে নেওয়ার কারণ এবং কী প্রক্রিয়ায় তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছিল, তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।
নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এরপরই নির্বাচক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেন মিসবাহ-উল-হক।
সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতা যেন একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবার রিজওয়ান ও ইমামকে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদ সেই ঘটনাপ্রবাহকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। **ঠিক কী কারণে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সেটিই এখন পাকিস্তান ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।**















