বার্সেলোনায় রদ্রির স্বপ্নের অভিষেক, অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-০ গোলে হারাল ফ্লিকের দল
- 1
রুবেলের ঘূর্ণিতে নর্দান টেরিটরিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ এইচপি
- 2
দিনুশার দেয়ালে থেমে গেল ভারতের জয়, কলম্বোতে ‘টেস্ট ক্রিকেটই জিতেছে’
- 3
বার্সেলোনায় রদ্রির স্বপ্নের অভিষেক, অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-০ গোলে হারাল ফ্লিকের দল
- 4
চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র: সহজ সূচি কার, কঠিন চ্যালেঞ্জে কারা
- 5
বিশ্বকাপের নিষেধাজ্ঞায় বড় স্বস্তি, প্রীতি ম্যাচেও শাস্তি কাটাতে পারবেন আর্জেন্টিনার চারজন

বার্সেলোনায় রদ্রির স্বপ্নের অভিষেক, অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-০ গোলে হারাল ফ্লিকের দল
বার্সেলোনায় রদ্রির স্বপ্নের অভিষেক, অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-০ গোলে হারাল ফ্লিকের দল
ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর অবশেষে কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে অভিষেক হলো রদ্রির। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন ব্যালন ডি’অরজয়ী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তাঁর অভিষেকের রাতটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে বার্সেলোনার ২-০ গোলের জয়ে।
এর আগের ম্যাচে এলচের বিপক্ষে রদ্রির অভিষেকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ম্যাচ খেলার ছন্দে পুরোপুরি না থাকায় তাঁকে মাঠে নামাননি কোচ হান্সি ফ্লিক। তবে বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিকেই তাঁর অভিষেকের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেন বার্সা কোচ।
ম্যাচের ৬৩ মিনিটে রাফিনিয়াকে তুলে রদ্রিকে মাঠে নামান ফ্লিক। মাঠে প্রবেশের সময় গ্যালারিতে শুরু হয় করতালির ঝড়। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নতুন তারকাকে বার্সার জার্সিতে দেখতে পেরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
রদ্রির মাঠে নামার আগে অবশ্য বার্সেলোনা এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। ৩৭ মিনিটে পেদ্রির দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডটি আগের ম্যাচে এলচের বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন। ফলে নতুন মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে বার্সেলোনার জয় আরও নিশ্চিত করেন ফেরমিন লোপেজ। বিলবাওয়ের সেন্টারব্যাক আইমেরিক লাপোর্তের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
রদ্রির অভিষেকের পাশাপাশি এই ম্যাচে বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী হওয়ার মতো অনেক কিছু দেখেছেন সমর্থকেরা। ফ্লিকের মূল একাদশে ছিলেন লামিনে ইয়ামাল, পাউ কুবারসি, মার্ক বের্নাল ও জাভি এসপার্তের মতো চার তরুণ ফুটবলার। তাদের সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধে রদ্রির মতো অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়ের সংযোজন বার্সার ভবিষ্যৎ দলটির একটি সম্ভাব্য চিত্রও তুলে ধরেছে।
অভিষেকের পর অবশ্য নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়কেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন রদ্রি। তিনি বলেন, বার্সেলোনার হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে এবং জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পেরে তিনি খুশি। একই সঙ্গে দলের ছন্দে ফেরাটাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সও ম্যাচের অন্যতম আলোচনার বিষয়। মূলত উইঙ্গার হলেও তাঁকে স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করছেন ফ্লিক। এলচের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর বিলবাওয়ের বিপক্ষেও একই ভূমিকায় গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। রাফিনিয়ার পজিশন নিয়ে ফ্লিকের অবশ্য কোনো সমস্যা নেই।
বার্সা কোচ বলেন, রাফিনিয়া কোন পজিশনে খেলছেন সেটি বড় বিষয় নয়। অধিনায়ক হিসেবে তিনি দল ও ক্লাবের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন। সমর্থকেরাও তাকে পছন্দ করেন—এটিকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন ফ্লিক।
এদিকে এই জয়ের ফলে লা লিগায় ঘরের মাঠে টানা ২০ ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে বার্সেলোনা। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ঘরের মাঠে টানা ২৫ ম্যাচ জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি।
বিলবাওয়ের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। ক্যাম্প ন্যুতে পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার পোস্টে একটি শটও নিতে পারেনি তারা। এর ফলে এই মাঠে টানা ১৬ ম্যাচ জয়হীন থাকার রেকর্ডও অব্যাহত থাকল।
সবশেষে রদ্রির অভিষেক নিয়ে ফ্লিকের মন্তব্যই যেন বার্সেলোনা সমর্থকদের অনুভূতিটা প্রকাশ করে দিয়েছে। তাঁর মতে, রদ্রি বার্সেলোনার জন্য একজন ‘পারফেক্ট’ খেলোয়াড়—ক্লাবের দর্শন এবং তারা যে ধরনের ফুটবল খেলতে চায়, তার সঙ্গে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের গুণাবলি পুরোপুরি মানানসই।
বার্সেলোনার জার্সিতে রদ্রির যাত্রা মাত্র শুরু। তবে প্রথম ম্যাচেই জয়, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং কোচের এমন প্রশংসা—সব মিলিয়ে তাঁর অভিষেকটা যে দারুণ হয়েছে, তা বলাই যায়।















