সূর্যবংশীকে ছাড়িয়ে ছক্কার নতুন রাজা অভিষেক
- 1
মেসির হেডে গোল, কাসেমিরোর জাদুতে ক্রুজ আজুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মায়ামি
- 2
রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে রেসিংকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে বার্সেলোনার ছয় ম্যাচে ছয় জয়
- 3
রিয়াদ ছাড়িয়ে শার্লটে WTA Finals, ২০২৭ থেকে নতুন ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রে
- 4
আগরকরের বিদায় ঘনিয়ে এসেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল নির্বাচনই শেষ দায়িত্ব?
- 5
মোদির ৭৬তম জন্মদিনে তারকাদের শুভেচ্ছা, শাহরুখ-সালমান থেকে মহেশ-মোহনলাল

সূর্যবংশীকে ছাড়িয়ে ছক্কার নতুন রাজা অভিষেক
সূর্যবংশীকে ছাড়িয়ে ছক্কার নতুন রাজা অভিষেক
বেচারা বৈভব সূর্যবংশী! আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটি ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ পেলেন না। আর সেই সুযোগেই ছক্কার দৌড়ে তাঁকে ছাড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে গেলেন অভিষেক শর্মা।
সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে চলতি বছরে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছক্কা এখন অভিষেকের—৯৬টি। শুধু আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই বাঁহাতি ওপেনার মেরেছেন ২২টি ছক্কা। অন্যদিকে সিরিজ শুরুর আগে এগিয়ে থাকা বৈভব সূর্যবংশী এখন আছেন ৮৬ ছক্কায়।
কম ম্যাচে ছক্কার ঝড় সূর্যবংশীর
তবে সূর্যবংশীর পক্ষেও বলার মতো একটি বড় পরিসংখ্যান আছে। মাত্র ২২ ম্যাচেই ৮৬টি ছক্কা মেরেছেন ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪.৯৯ বলে একটি ছক্কা।
অভিষেকের ক্ষেত্রে একটি ছক্কার জন্য গড়ে খেলতে হয়েছে ৬.৬৪ বল।
অর্থাৎ মোট ছক্কার সংখ্যায় অভিষেক এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ ও বলের হিসেবে সূর্যবংশীর ছক্কার হার যে কতটা বিস্ময়কর, সেটিও আলাদা করে নজর কাড়ে।
যে রেকর্ড ভাঙার লড়াই, সেটিও অভিষেকের
অভিষেকের অবশ্য আরেকটি যুক্তি আছে। কারণ, যে রেকর্ড ভাঙার জন্য এবার তাঁর সঙ্গে সূর্যবংশীর লড়াই, সেই রেকর্ডের মালিকও অভিষেক নিজেই।
গত বছর ১০৮টি ছক্কা মেরে এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এর আগের বছর, ২০২৪ সালেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৮৭টি ছক্কা।
অর্থাৎ টানা তিন বছর ধরেই ছক্কার তালিকায় নিজের অবস্থানকে আরও ওপরে তুলছেন অভিষেক।
বিশ্ব ক্রিকেটেও ছক্কার দৌড়ে ভারতের দাপট
শুধু ভারতীয়দের মধ্যে হিসাব করলে অভিষেকের আধিপত্য আরও স্পষ্ট। তবে বিশ্বের সব ক্রিকেটারকে ধরলেও ভারতের ব্যাটসম্যানদের অবস্থান বেশ ওপরে।
২০২৫ সালে ১০৮টি ছক্কা নিয়ে অভিষেক ছিলেন পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা সংগ্রাহক। তাঁর ওপরে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরান, যিনি মেরেছিলেন ১২১টি ছক্কা।
তবে এখানে ম্যাচের হিসাবটিও গুরুত্বপূর্ণ। পুরান অভিষেকের চেয়ে ২২টি ম্যাচ বেশি খেলেই ১৩টি ছক্কা বেশি মেরেছিলেন।
চলতি বছরও সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় অভিষেক আছেন তিন নম্বরে। তাঁর চেয়ে এগিয়ে পুরান ও ফিন অ্যালেন। পুরানের ছক্কা ৯৯টি, অ্যালেনের ১০১টি। কিন্তু ম্যাচের হিসাবে দুজনই অভিষেকের চেয়ে অনেক বেশি খেলেছেন।
অভিষেক যেখানে খেলেছেন ৪১ ম্যাচ, সেখানে পুরান খেলেছেন ৪৯টি এবং অ্যালেন ৫২টি।

আরও ম্যাচ পেলে কোথায় থাকতেন অভিষেক?
এখানেই পরিসংখ্যানটি আরও আকর্ষণীয়। অভিষেক যদি পুরান বা অ্যালেনের মতো আরও ৮-১০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেন, তাঁর ছক্কার সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত—তা সহজেই অনুমান করা যায়।
আর সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও বড়। তিনি অভিষেকের চেয়েও ১৯টি ম্যাচ কম খেলেছেন। তারপরও ৮৬টি ছক্কা তাঁর নামের পাশে।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ কম খেলার পেছনে কিছু কাঠামোগত কারণও রয়েছে। অভিষেকদের দেশের বাইরে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ নেই। আবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারত নিয়মিত একাধিক ক্রিকেটারকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলায়।
সূর্যবংশীর ক্ষেত্রেও সেটির উদাহরণ দেখা গেল আফগানিস্তান সিরিজে। তিন ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি।
অন্যদিকে নিকোলাস পুরান, ফিন অ্যালেনদের মতো ক্রিকেটারদের নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ থাকে। ফলে তাঁদের ম্যাচসংখ্যাও বেশি, আর ছক্কা মারার সুযোগও বেশি।
সংখ্যার হিসাবে তাই অভিষেক এখন এগিয়ে, কিন্তু ম্যাচপ্রতি ছক্কার গতিতে সূর্যবংশীর পরিসংখ্যানও আলাদা করে নজর কাড়ছে।














