Image

বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও ধারালো কেইন, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৭৩ গোলের বার্তা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 21 মিনিট আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও ধারালো কেইন, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৭৩ গোলের বার্তা

বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও ধারালো কেইন, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৭৩ গোলের বার্তা

বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও ধারালো কেইন, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ৭৩ গোলের বার্তা

হ্যারি কেইন কি তাহলে ওয়াইনের মতো? বয়স যত বাড়ছে, যেন ততই বাড়ছে তাঁর গোলের স্বাদ! টটেনহ্যামে থাকার সময় এক মৌসুমে তাঁর সর্বোচ্চ গোল ছিল ৪১টি—২০১৭–১৮ মৌসুমে। তখন কেইনের বয়স মাত্র ২৫।

২০২৩ সালে ৩০ বছর বয়সে বুন্দেসলিগার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। এরপর জার্মান ক্লাবটির হয়ে প্রথম তিন মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা যথাক্রমে ৪৪, ৪১ ও ৬১। এর সঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে আরও ১২ গোল যোগ করলে গত মৌসুমের হিসাব দাঁড়ায় অবিশ্বাস্য—৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল!

স্বাভাবিকভাবেই এবার ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত দাবিদার কেইন। এক মৌসুমে এত গোলের নজির খুব বেশি নেই। ২০১১–১২ মৌসুমে ৬৯ ম্যাচে লিওনেল মেসির ৮২ গোলের পর গত মৌসুমে কেইনের ৭৩ গোলই সর্বোচ্চগুলোর একটি।

বায়ার্নের হয়ে গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জিতেছেন কেইন। বিশ্বকাপেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল আলোচনায়—৬ গোল করে ইংল্যান্ডকে তুলেছেন সেমিফাইনালে। ফলে ইংলিশ সমর্থকদের মধ্যে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আশাবাদ থাকাটাই স্বাভাবিক।

তবে পুরস্কারটি জেতার পথে কেইনের প্রতিদ্বন্দ্বীও কম নন। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালও নিজেদের পক্ষে শক্ত যুক্তি তুলে ধরেছেন।

এমবাপ্পে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড ভেঙে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তুলেছেন এবং জিতেছেন গোল্ডেন বুট। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে করেছেন ৪২ গোল, যদিও কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। অন্যদিকে ইয়ামাল বিশ্বকাপ ও লা লিগা জয়ের পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে করেছেন ২৪ গোল এবং বানিয়েছেন আরও ১৮টি।

তাহলে কেইন নিজেকে ব্যালন ডি’অরের দাবিদার হিসেবে কীভাবে দেখছেন?

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইংলিশ স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘নিজেকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে ভালো লাগে না। শুধু এটুকু বলব, গত মৌসুমটি অসাধারণ ছিল। সেটি ছিল আমার জীবনের সেরা মৌসুম... তবে ব্যালন ডি’অর তো আর আমার হাতে নেই, এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভোটদাতাদের ওপর। ৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে।’

এবারের ব্যালন ডি’অর কেইনের জন্য বাড়তি বিশেষও। কারণ প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে বসছে এই পুরস্কারের আসর। আর কেইন তো সেই শহরেরই ছেলে।

এ নিয়ে তাঁর অনুভূতিও আলাদা। কেইন বলেন, ‘অনেকে আমাকে এই কথা বলেছেন। হয়তো এটি ভালো লক্ষণ। এটি আমার নিজের শহর হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে। তাই হ্যাঁ, এ বছর সেখানে এটি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়াটা এক অদ্ভুত অনুভূতি। দেখতে হবে শেষ পর্যন্ত কী হয়।’

এত গোল করার পর গোল উদ্‌যাপন করতে ক্লান্তি আসে না? কেইনের উত্তরও একজন জাত স্ট্রাইকারের মতোই—‘কখনোই না। গোল করার অনুভূতিটাই সবচেয়ে দারুণ! এটি এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চ তৈরি করে; একই সঙ্গে মনের ভেতর এক বিশাল স্বস্তির ভাব আসে। আমি জানি, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর এই অনুভূতিটা আমি ভীষণ মিস করব।’

কেইনের বয়স এখন ৩৩। যেখানে অনেক ফুটবলার এই বয়সে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের কথা ভাবেন, সেখানে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা যেন উল্টো আরও ধারালো হয়ে উঠছেন।

এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত ক্রীড়া চিকিৎসক আলেহান্দ্রো এলোরিয়াগার। কেইনের সঙ্গে গত সাড়ে ছয় বছর ধরে কাজ করছেন তিনি।

কেইন বলেন, ‘আমার বর্তমান ফর্মে আলেহান্দ্রোর ভূমিকা অত্যন্ত মৌলিক। পর্দার আড়ালে আমরা প্রচুর কাজ করি। সাড়ে ছয় বছর ধরে একসঙ্গে আছি। এ পর্যায়ে পারফর্ম করা এবং এত বেশি ম্যাচ খেলতে পারার পেছনে তিনিই অন্যতম প্রধান কারণ।’

বয়সের সঙ্গে পারফরম্যান্স কমার প্রচলিত ধারণার কথাও উল্লেখ করেছেন কেইন। তাঁর ভাষায়, ‘অনেকের ধারণা, এ বয়সে পারফরম্যান্স সাধারণত কমতে থাকে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে প্রায় উল্টো ঘটনাই ঘটেছে। আলেহান্দ্রোর সঙ্গে কাজ দুজনের জন্যই অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও তৃপ্তিদায়ক।’

ব্যালন ডি’অরের ফল যাই হোক, কেইনের নিজের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—৭৩ গোলের মৌসুমের পর নিজের হয়ে প্রচারণা চালানোর প্রয়োজন তিনি খুব একটা অনুভব করছেন না।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three