Image

নেটফ্লিক্সে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ‘আলফা’, দুইয়ে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
নেটফ্লিক্সে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ‘আলফা’, দুইয়ে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’

নেটফ্লিক্সে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ‘আলফা’, দুইয়ে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’

নেটফ্লিক্সে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ‘আলফা’, দুইয়ে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’

নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলিউডের একাধিক সিনেমা ও সিরিজ। প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাশামতো সাড়া না পাওয়া কিছু সিনেমাও ওটিটিতে এসে নতুন করে দর্শকের নজর কেড়েছে। বাংলাদেশের নেটফ্লিক্স তালিকায় যেমন জায়গা করে নিয়েছে ‘আলফা’, ‘ফেসিং এল চ্যাপো’, ‘ককটেল ২’ ও ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’, তেমনি সিরিজের তালিকায় আলোচনায় রয়েছে ‘মুসাফির ক্যাফে’ ও ‘অপারেশন সফেদ সাগর’।

সিনেমা

‘আলফা’

যশরাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের সিনেমা ‘আলফা’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। সমালোচকদের কাছ থেকেও খুব একটা ইতিবাচক সাড়া পায়নি সিনেমাটি। তবে নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর বদলে গেছে চিত্র। বাংলাদেশসহ আরও ছয়টি দেশের দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি ভালো সাড়া পাচ্ছে।

শিব রাওয়াল পরিচালিত সিনেমাটিতে আলিয়া ভাট অভিনয় করেছেন সীতার চরিত্রে। রহস্যময় অতীত নিয়ে বেড়ে ওঠা এই নারীকে দেখানো হয়েছে দুর্ধর্ষ এক যোদ্ধা হিসেবে। অন্যদিকে শর্বরী বাগ অভিনয় করেছেন দুর্গা চরিত্রে। তাঁদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান বিক্রান্ত কৌলের রহস্যময় সম্পর্ক।

সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন অনিল কাপুর ও ববি দেওল। অ্যাকশন, প্রতিশোধ, পারিবারিক রহস্য ও গুপ্তচরবৃত্তির সমন্বয়ে এগিয়েছে ‘আলফা’র গল্প।

‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬’

ভিডিও গেমের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬’ বা ‘জিটিএ ৬’। গত ২৭ আগস্ট নেটফ্লিক্সে প্রকাশ করা হয় গেমটির প্রায় ২৭ মিনিটের একটি বিশেষ ভিডিও। এক্সটেন্ডেড লুক বা গেমপ্লের সেই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। এতে গেমটির বিশাল জগৎ, বিভিন্ন চরিত্র, অ্যাকশন ও গল্পের নানা দিকের ঝলক দেখা যায়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস জানিয়েছে, পুরো ভিডিওটি প্লেস্টেশন ৫-এ ধারণ করা গেমের ফুটেজ দিয়ে তৈরি।

সাধারণত ভিডিও গেমের ট্রেলার ইউটিউব কিংবা বিশেষ গেমিং ইভেন্টে প্রকাশ করা হয়। তবে ‘জিটিএ ৬’-এর ক্ষেত্রে প্রথম প্রদর্শনের জন্য নেটফ্লিক্সকে বেছে নেয় রকস্টার। পরে ভিডিওটি রকস্টারের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশ করা হয়।

‘ফেসিং এল চ্যাপো’

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদকসম্রাট হোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজমানকে কেন্দ্র করে নির্মিত ক্রাইম থ্রিলার ‘ফেসিং এল চ্যাপো’। গত ২১ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে সিনেমাটি।

মুক্তির পর টানা এক সপ্তাহ নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে ছিল সিনেমাটি। বাংলাদেশেও দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া পেয়েছে এবং তালিকায় রয়েছে চার নম্বরে।

বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটির গল্পে উঠে এসেছে এমন এক রাতের ঘটনা, যখন দায়িত্বের শেষ মুহূর্তে থাকা দুই পুলিশ কর্মকর্তা মুখোমুখি হন কুখ্যাত মাদকসম্রাট এল চ্যাপোর। চাভা কার্তাস পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আলফোনসো হেরেরা, নোয়ে হার্নান্দেজ ও হেক্টর কোতসিফাকিস।

‘ককটেল ২’

হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল ২’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় গত জুনে। সিনেমাটি মোটামুটি ব্যবসা করলেও সমালোচকদের কাছ থেকে তেমন প্রশংসা পায়নি। বরং অনেক সমালোচক সিনেমাটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তবে নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর যেন বদলে গেছে সেই চিত্র। মুক্তির পর থেকেই প্ল্যাটফর্মটির বৈশ্বিক নন-ইংলিশ সিনেমার শীর্ষ ১০ তালিকায় জায়গা ধরে রেখেছে ‘ককটেল ২’।

সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া প্রেম, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নানা সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটির প্রধান তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদ কাপুর, রাশমিকা মান্দানা ও কৃতি শ্যানন।

বাংলাদেশে সিনেমাটির জনপ্রিয়তার পেছনে আগের কিস্তির প্রভাব যেমন থাকতে পারে, তেমনি বড় কারণ হতে পারে রাশমিকা মান্দানার উপস্থিতিও। বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে বরাবরই জনপ্রিয় এই দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ‘ককটেল ২’-এ তাঁর পরিচিত ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ ইমেজের বাইরে ভিন্নভাবে হাজির হয়েছেন।

‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’

নেটফ্লিক্সে মুক্তির প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। বাংলাদেশের নেটফ্লিক্স তালিকায় সিনেমাটি রয়েছে পাঁচ নম্বরে।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ৯৫ বছর বয়সী ইশার সিং গ্রেওয়াল। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও তাঁর মন পড়ে থাকে পাকিস্তানের সারগোধায়—যেখানে কেটেছে তাঁর শৈশব, ছিল নিজের বাড়ি এবং হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার স্মৃতি।

বিচ্ছেদের মুহূর্তে প্রিয় মানুষটিকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’, অর্থাৎ ‘আমি ফিরে আসব’। সেই প্রতিশ্রুতি ও স্মৃতিকে ঘিরেই এগিয়েছে সিনেমাটির গল্প।

এতে অভিনয় করেছেন নাসিরউদ্দিন শাহ, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, বেদাং রায়না ও শর্বরী বাগ।

সিরিজ

‘মুসাফির ক্যাফে’

মুক্তির পর থেকেই বাংলাদেশের দর্শকদের, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মুসাফির ক্যাফে’। দেড় মাসের কাছাকাছি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সিরিজের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এটি।

অসমাপ্ত প্রেম, জীবনের লক্ষ্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিরিজটির গল্প। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সফটওয়্যার কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসে চন্দর। চাকরি করলেও তার স্বপ্ন পাহাড়ে নিজের একটি ক্যাফে তৈরি করা।

এরই মধ্যে তার জীবনে আসে প্রাণবন্ত ও আত্মবিশ্বাসী আইনজীবী সুধা। দ্রুতই গভীর হয় তাঁদের সম্পর্ক। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংঘাতে একসময় ভেঙে যায় সেই সম্পর্ক।

সময় গড়ানোর সঙ্গে চন্দরের জীবনে আসে শান্ত ও সংবেদনশীল প্রীতি। দুটি ভিন্ন সময়রেখায় এগিয়ে যায় গল্প। সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো ও মহিমা মাকওয়ানা। পরিচালনায় রয়েছেন রুচির অরুণ।

‘অপারেশন সফেদ সাগর’

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযানের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ মুক্তির পর থেকেই প্রশংসা পাচ্ছে। বাংলাদেশের নেটফ্লিক্স সিরিজের তালিকায় এটি রয়েছে দুই নম্বরে।

সমালোচকদের মতে, সিরিজটি যুদ্ধবিরোধী কোনো বক্তব্য তুলে ধরার চেয়ে মূলত বীরত্বের গল্প বলতেই বেশি আগ্রহী। সৈনিকদের মানুষ হিসেবে দেখানোর কিছু মুহূর্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের দায়িত্ব পালনকারী পেশাদার যোদ্ধা হিসেবে।

এই দিকটিই সিরিজটিকে প্রচলিত প্রোপাগান্ডাধর্মী যুদ্ধভিত্তিক কিছু নির্মাণ থেকে আলাদা করেছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

ওনি সেন পরিচালিত সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ, জিমি শেরগিল, অভয় ভার্মা, দিয়া মির্জাসহ আরও অনেকে।

‘আওয়ার স্টিকি লাভ’

নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় রয়েছে কোরিয়ান রোমান্টিক কমেডি সিরিজ ‘আওয়ার স্টিকি লাভ’। প্রেম, রহস্য, অ্যাকশন, স্মৃতিভ্রম ও অপরাধজগতের যোগসূত্রকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়েছে সিরিজটির গল্প।

সিরিজটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ নায়ক জুং হে-ইনের উপস্থিতি। মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী হা ইয়ংয়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক। সেই বিতর্কও সিরিজটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

১২ পর্বের সিরিজটির গল্প শুরু হয় উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রসিকিউটর গো উন-সেকে ঘিরে। একটি বিপজ্জনক তদন্তে জড়িয়ে গুরুতর হামলার শিকার হওয়ার পর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে সে। এরপর তার জীবনে আসে বক্সিং প্রশিক্ষক তে-হা। তার দাবি, উন-সে আসলে তার প্রেমিকা!

প্রেম, রহস্য ও অ্যাকশনের মিশেলে তৈরি সিরিজটি নেটফ্লিক্সের দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three