Image

সালমান শাহ নেই, তবু শেষ হয়েছিল তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো যেভাবে

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 দিন আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সালমান শাহ নেই, তবু শেষ হয়েছিল তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো যেভাবে

সালমান শাহ নেই, তবু শেষ হয়েছিল তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো যেভাবে

সালমান শাহ নেই, তবু শেষ হয়েছিল তাঁর অসমাপ্ত সিনেমাগুলো যেভাবে

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন সালমান শাহ। আজ প্রয়াত এই জনপ্রিয় নায়কের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু শুধু চলচ্চিত্রপ্রেমীদেরই নয়, বড় ধাক্কা দিয়েছিল নির্মাতাদেরও। কারণ, মৃত্যুর সময় তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার শুটিং তখনো অসমাপ্ত ছিল।

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর তিনটি জনপ্রিয় সিনেমা বিনামূল্যে প্রদর্শন করা হবে বিএফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় সিনেমাপ্রেমীরা এই আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন।

প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর প্রদর্শিত হবে সালমান শাহ অভিনীত ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর দেখানো হবে সালমান শাহ ও মৌসুমী অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। আয়োজনের শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর দর্শকরা দেখতে পারবেন সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত ‘তোমাকে চাই’

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যুর সময় তাঁর কয়েকটি সিনেমার কাজ চলছিল। কোথাও ক্লাইম্যাক্স অসমাপ্ত ছিল, কোথাও গান ও ডাবিং বাকি ছিল। আবার কোনো কোনো সিনেমার শুটিং তখনো অর্ধেকও শেষ হয়নি। কিন্তু নির্মাতারা থেমে থাকেননি। গল্প পরিবর্তন, ডামি ব্যবহার কিংবা নতুন অভিনেতাকে যুক্ত করে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি সিনেমা মুক্তি দেওয়া হয়।

শাবনূরকে সামনে রেখে শেষ হয় ‘প্রেম পিয়াসী’

সালমান শাহর মৃত্যুর পর অসমাপ্ত অবস্থায় থাকা সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল ‘প্রেম পিয়াসী’। সিনেমাটির গান, ক্লাইম্যাক্সসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের কাজ শেষ করতে পারেননি তিনি।

পরে নির্মাতারা ভিন্ন কৌশল নেন। কয়েকটি দৃশ্যে শাবনূরকে সামনে রেখে শুটিং করা হয়। সালমান শাহর উপস্থিতি বোঝাতে কোথাও ডামি এবং দূর থেকে নেওয়া শট ব্যবহার করা হয়। গল্পের শেষ অংশেও আনা হয় পরিবর্তন। ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তি পায়।

‘স্বপ্নের নায়ক’-এ গল্প বদলে আসেন আমিন খান

সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমা শেষ করার সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণগুলোর একটি ‘স্বপ্নের নায়ক’। সিনেমাটির অর্ধেকেরও কম কাজ করেছিলেন তিনি।

তাঁর মৃত্যুর পর নির্মাতারা গল্পে বড় পরিবর্তন আনেন। মাঝপথেই সালমান শাহর চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়। এরপর গল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে যুক্ত করা হয় আমিন খানকে। অর্থাৎ, সালমানের চরিত্রে কাউকে সরাসরি বসানো হয়নি; নতুন একটি চরিত্রের মাধ্যমে গল্পের পরবর্তী অংশ এগিয়ে নেওয়া হয়।

১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মুক্তি পায় সিনেমাটি।

ডামির সাহায্যে শেষ ‘শুধু তুমি’

‘শুধু তুমি’ সিনেমাটির কাজ ছিল সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান শাহ সিনেমাটির ৩০ শতাংশেরও কম কাজ শেষ করেছিলেন।

তাঁর অনুপস্থিতিতে বাকি গল্প এগিয়ে নিতে ডামি ব্যবহার করা হয় এবং গল্পেও পরিবর্তন আনা হয়। তবে ডামির ব্যবহার দর্শকদের চোখ এড়াতে পারেনি। ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি তাই সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে আছে।

‘আনন্দ অশ্রু’ শেষ করেন শিবলি সাদিক

‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার বেশির ভাগ শুটিং সালমান শাহর জীবদ্দশাতেই শেষ হয়েছিল। তবে বাকি ছিল শেষ দৃশ্য, কয়েকটি গানের শুটিং এবং ডাবিং।

পরিচালক শিবলি সাদিক পরে সালমান শাহকে ছাড়াই সিনেমাটির বাকি কাজ সম্পন্ন করেন। ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া ছবিটি তাঁর মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত।

সালমানের জায়গায় নতুন মুখ ফেরদৌস

সবচেয়ে অভিনব সমাধান দেখা যায় ‘বুকের ভিতর আগুন’ সিনেমায়। সালমান শাহর মৃত্যুর সময় সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি ছিল। শুধু ডামি ব্যবহার করে গল্প এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

তাই গল্পেই আনা হয় বড় পরিবর্তন। কাহিনিতে দেখানো হয়, প্লাস্টিক সার্জারির কারণে মূল চরিত্রের চেহারা বদলে গেছে। সেই পরিবর্তিত চরিত্রে পর্দায় আসেন ফেরদৌস আহমেদ।

এই সিনেমার মাধ্যমেই বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে ফেরদৌসের। একই সঙ্গে এটি ছিল সালমান শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা।

সালমানের দৃশ্য বাদ দিয়ে নতুন করে ‘মন মানে না’

সব সিনেমা ডামি বা গল্প পরিবর্তন করে শেষ করা হয়নি। ‘মন মানে না’ সিনেমার ক্ষেত্রে নেওয়া হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত।

সালমান শাহ সিনেমাটির কিছু অংশের কাজ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেই দৃশ্যগুলো বাদ দিয়ে রিয়াজকে নিয়ে সিনেমাটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়। অর্থাৎ, সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্রকে পর্দায় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়নি; বরং নতুন অভিনেতাকে নিয়ে নতুনভাবে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়।

ওমর সানী ও অমিত হাসানকে নিয়ে নতুন নির্মাণ

একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আরও কয়েকটি সিনেমার ক্ষেত্রে। সালমান শাহর শুট করা অংশ বাদ দিয়ে ‘কে অপরাধী’ নতুন করে নির্মাণ করা হয় ওমর সানীকে নিয়ে।

অন্যদিকে ‘তুমি শুধু তুমি’ সিনেমাটিও নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় অমিত হাসানকে নিয়ে। এসব ক্ষেত্রে সালমান শাহর অসমাপ্ত চরিত্রকে জোড়া লাগানোর পরিবর্তে নতুন অভিনেতাদের দিয়ে গল্প নতুনভাবে সাজানো হয়েছিল।

যে সিনেমাটি আর শেষ হয়নি

সব অসমাপ্ত সিনেমার পরিণতি অবশ্য এক রকম ছিল না। ‘প্রেমের বাজি’ শেষ পর্যন্ত আর সম্পন্ন হয়নি। সালমান শাহর মৃত্যুর পর সিনেমাটি অন্য কোনো অভিনেতাকে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি।

ফলে সিনেমাটি রয়ে গেছে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অসমাপ্ত অধ্যায় হয়ে।

৩০ বছর পরও পূরণ হয়নি শূন্যতা

সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর গল্প আসলে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণের গল্প নয়; এটি এক অকালপ্রয়াত তারকার রেখে যাওয়া বিশাল শূন্যতার গল্পও।

নির্মাতারা কোথাও গল্প বদলেছেন, কোথাও ডামি ব্যবহার করেছেন। নতুন নায়ক এনেছেন, আবার কোথাও সালমান শাহর শুট করা অংশ পুরোপুরি বাদ দিয়ে সিনেমা নতুন করে নির্মাণ করেছেন।

কিন্তু ৩০ বছর পরও একটি বিষয় স্পষ্ট—সালমান শাহর জায়গা কেউ পূরণ করতে পারেননি। সিনেমাগুলো শেষ হয়েছিল, গল্প এগিয়েছে, নতুন মুখ এসেছে; কিন্তু দর্শকের চোখ বারবার খুঁজেছে সেই মানুষটিকেই, যিনি সিনেমার শুরুতে ছিলেন, অথচ শেষ দৃশ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। 

 

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three