Image

ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প, নেতাদের বিচার চাইলেন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 5 দিন আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প, নেতাদের বিচার চাইলেন

ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প, নেতাদের বিচার চাইলেন

ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প, নেতাদের বিচার চাইলেন

ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটির নেতাদের মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সরকার ও দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং দেশটির সরকার নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক সদস্যদের বেতন দিতেও সমস্যায় পড়েছে।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, বিক্ষোভে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানের নেতাদের মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। তবে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া নতুন পরিসংখ্যানের স্বাধীন কোনো ব্যাখ্যা বা নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেন, ইরানের কোনো কার্যকর নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই, দেশটির মুদ্রার মূল্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও মারাত্মক সংকটে রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং দেশটির নেতৃত্ব কার্যকরভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লারাক দ্বীপে এমন রকেট লঞ্চারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলো হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন বহনকারী রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর জবাবে ইরান জর্ডানে মার্কিন সেনা থাকা একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মাধ্যমে তেহরান পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা ও ইচ্ছার বার্তা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে আরও জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। ফলে চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পথে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের রাজনৈতিক ভাঙন বা ব্যাপক দলত্যাগের ঘটনা ঘটেনি। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরও সামরিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বিক্ষোভ দমন নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এবার তিনি সেই সংখ্যা এক লাখের বেশি বলে দাবি করেছেন। তবে নতুন এই পরিসংখ্যানের উৎস কী, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

অন্যদিকে ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। তেহরান এসব মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল-সমর্থিত দাঙ্গাবাজদের দায়ী করেছে।

সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অবশ্য দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই উঠছে। ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। সংঘাতের প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়; নিহতদের অধিকাংশই শিশু।

এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য ও ইরানের পাল্টা হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির পরবর্তী developments এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three