তিন দশক পরও মৌসুমীর প্রেমে মুগ্ধ ওমর সানী
- 1
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 2
আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ঘিরে ধরেছিলেন বিক্ষোভকারীরা
- 3
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 4
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’
- 5
১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন

তিন দশক পরও মৌসুমীর প্রেমে মুগ্ধ ওমর সানী
তিন দশক পরও মৌসুমীর প্রেমে মুগ্ধ ওমর সানী
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেম-ভালোবাসার গল্প তিন দশক পেরিয়েও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ চুপিসারে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। এরপর পেরিয়ে গেছে ৩১ বছর। সংসার, সন্তান, অভিমান কিংবা বিচ্ছেদের নানা গুঞ্জন—সবকিছু পেছনে ফেলে এখনো একসঙ্গেই আছেন এই তারকা দম্পতি।
সম্প্রতি নিজেদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসার কারণ জানিয়েছেন ওমর সানী। স্ত্রীকে এখনো কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব ও জেদ তাঁকে ভীষণ টানে।
ওমর সানীর ভাষায়, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’
তবে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় ওমর সানীর কাছে তাঁদের দুই সন্তানের মা। সন্তানদের নিয়ে মৌসুমীর যত্ন ও চিন্তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
সানী বলেন, ‘একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।’
এরপর সংসারের একটি মজার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই–চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।’
তিন দশকের দাম্পত্য জীবনে মাঝেমধ্যে তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। এসব নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, তাঁরা দুজনই মানুষ, তাই ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে এসব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত লেখালেখি হলে বিষয়টি নিয়ে মৌসুমী মজা করে মন্তব্য করেন।
সানীর ভাষায়, ‘আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তা–ই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।’
এ প্রসঙ্গে মৌসুমীর একটি মন্তব্যও জানান তিনি, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’
সব আলোচনা-সমালোচনার বাইরে নিজের অনুভূতিটাও স্পষ্ট করেছেন ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’
দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি মনে করেন সানী। তাঁর মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস এবং প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’
মৌসুমীর আরেকটি গুণের কথাও উল্লেখ করেছেন সানী। কখনো তাঁর কোনো সিদ্ধান্তে ভুল দেখলে স্ত্রী তাঁকে বকাঝকা করেন, আবার পরক্ষণেই পাশে দাঁড়ান। এই বিষয়টিকেও তিনি তাঁদের সম্পর্কের স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক অংশ হিসেবে দেখেন।
সানীর কথায়, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করবা, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’
তবে সানী-মৌসুমীর প্রেমের গল্পের শুরুটা এতটা সহজ ছিল না। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে প্রথমবার দেখা হয় তাঁদের। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই তাঁদের প্রথম কথা হয়। কিন্তু অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরে এসেছিলেন ওমর সানী।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তাঁরা। সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্বই একসময় রূপ নেয় ভালো লাগায়।
মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, তাঁর পরিবারের আন্তরিকতা এবং আচরণ ধীরে ধীরে মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। এরপর সম্পর্ক আরও গভীর হলে ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তাঁরা।
বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। দেখতে দেখতে সেই সম্পর্ক পেরিয়ে এসেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। নানা আলোচনা, অভিমান ও গুঞ্জনের মধ্যেও একসঙ্গে পথচলা অব্যাহত রেখেছেন ঢালিউডের এই জনপ্রিয় জুটি।















