‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম নিয়ে যা বললেন কিলিয়ান এমবাপ্পে
- 1
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 2
আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ঘিরে ধরেছিলেন বিক্ষোভকারীরা
- 3
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 4
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’
- 5
১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন

‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম নিয়ে যা বললেন কিলিয়ান এমবাপ্পে
‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম নিয়ে যা বললেন কিলিয়ান এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে কি শুধু ফুটবলার, নাকি ফুটবলের ‘স্বৈরাচার’? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য দ্বিতীয় পরিচয়টাই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেখানে এমবাপ্পে শুধু গোলই করেন না—কোচ বরখাস্ত করেন, খেলোয়াড়কে ক্লাব ছাড়ান, সতীর্থদের পারফরম্যান্সের বিচার করেন, এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও নাকি তাঁর কাছে রিপোর্ট দিতে আসেন!
সামরিক পোশাক, মাথায় টুপি, কখনো আবার সিংহাসনে বসা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি নানা ছবিতে এমবাপ্পেকে দেখানো হচ্ছে ‘স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ নামের মিমও।
এমবাপ্পেকে স্বৈরাচার হিসেবে উপস্থাপনের শুরুটা ঠিক কোথা থেকে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ২০২৪ সালের একটি ঘটনা এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে।
সে বছর ফরাসি ইনফ্লুয়েন্সার ও কাবাবের দোকানের মালিক মোহাম্মদ হেন্নির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। তাঁর দোকানের একটি স্যান্ডউইচের বর্ণনায় ব্যবহার করা হয়েছিল এমবাপ্পের নাম। পরে এমবাপ্পের আইনজীবীরা সেই নাম সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দেয়। এরপর থেকেই ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চান’—এমন একটি চরিত্রে এমবাপ্পেকে উপস্থাপনের প্রবণতা আরও জোরালো হয়।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফুটবলে তাঁর কথিত প্রভাবের বিষয়টিও। ২০২২ সালে পিএসজির সঙ্গে নতুন চুক্তি করার পর সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল, খেলোয়াড় কেনাবেচা, কোচ ও ক্রীড়া পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এমবাপ্পের প্রভাব থাকবে। যদিও এমবাপ্পে তখন পরিষ্কার করে বলেছিলেন, তিনি একজন ফুটবলারের ভূমিকার বাইরে যেতে চান না।
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর সেই পুরোনো আলোচনাই যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিওতে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম আরও ছড়িয়ে পড়ে। মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া, সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা সাধারণ কোনো ঘটনাকেও মজা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন দলের সব সিদ্ধান্তই তাঁর নির্দেশে হচ্ছে।
এবার সেই মিম নিয়েই মুখ খুলেছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টির একটি দিক তাঁর কাছে মজারই লাগে। কারণ, অনেকেই যে নিছক হাসি-ঠাট্টার জন্য এসব তৈরি করেন, তা তিনি বোঝেন। তবে ইতিহাসের ভয়াবহ স্বৈরশাসকদের সঙ্গে নিজের তুলনা করাটা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর।
কেন অস্বস্তিকর, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন এমবাপ্পে। তাঁর ভাষায়, ‘যারা মানুষ হত্যা করেছে, লাখো-কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি।’
এমবাপ্পের মতে, ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম কখনো কখনো নিছক মজার হতে পারে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার ঘাটতিও প্রকাশ পায়।
তবে সতীর্থ উসমান দেম্বেলের দেওয়া ‘মোবুতু’ ডাকটি আলাদাভাবেই দেখেন এমবাপ্পে। সাবেক জায়ারের স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে আসা এই ডাক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই।
দেম্বেলের প্রসঙ্গে হেসে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘ও আলাদা কিছু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেয়েছে! ও তো শুধু মজা করছে।’
অর্থাৎ, ফুটবল মাঠে এমবাপ্পে যতই ক্ষমতাবান হয়ে উঠুন না কেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘স্বৈরাচার’ চরিত্রটিকে বাস্তবের সঙ্গে মেলাতে রাজি নন তিনি।

















