ফিফার তহবিল অপব্যবহারে দুই সাবেক সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ
- 1
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 2
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 3
আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ঘিরে ধরেছিলেন বিক্ষোভকারীরা
- 4
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’
- 5
তিন দিনেই ইনিংস হারের শঙ্কায় পাকিস্তান, রবিনসনের তোপে ২ উইকেট নেই

ফিফার তহবিল অপব্যবহারে দুই সাবেক সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ
ফিফার তহবিল অপব্যবহারে দুই সাবেক সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ
ফিফার তহবিলের অর্থ অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে মালদ্বীপ ও মন্টসেরাটের দুই সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। একই ঘটনায় আরও দুই কর্মকর্তাকেও দীর্ঘ মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করা হয়েছে।
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিলের বিরুদ্ধে ফিফার কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ব্রিটিশ সামুদ্রিক ভূখণ্ড মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেলকে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ফিফার তহবিলের অর্থে ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে ফুটবলসংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোকে সহায়তা দিতে অনুদান ও ঋণ মিলিয়ে বড় অঙ্কের তহবিল ঘোষণা করেছিল ফিফা। সেই তহবিলের অর্থ মালদ্বীপে স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল।
মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ১২ লাখ ডলার আত্মসাতের মামলায় বাসাম আদিল জলিলকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। অভিযোগ রয়েছে, ফুটবলের জন্য বরাদ্দ ওই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল।
ফিফা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থে কোভিড-১৯ তহবিলের অর্থ অপব্যবহারের দায়ে জলিলকে ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মন্টসেরাটের সাবেক সভাপতি ক্যাসেলও আজীবন নিষিদ্ধ
মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ৩০ বছরের সভাপতি ছিলেন ভিনসেন্ট ক্যাসেল। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
ফিফার অভিযোগ, ক্যাসেল পদের অপব্যবহার করেছেন, একাধিকবার স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়েছেন এবং ফিফা ও ফেডারেশনের তহবিল অপব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে এমন আচরণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যাসেলকে আজীবনের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। তবে এই জরিমানা কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে ফিফার এখতিয়ার কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
১৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা হিউজকে
ক্যাসেলের দীর্ঘদিনের সহযোগী ও মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তানদিকা হিউজকেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা।
‘অনুপযুক্ত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তাতে সহায়তা করা’, পদের অপব্যবহার এবং তহবিল তছরুপের দায়ে তাঁকে ১৫ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।
হিউজ ও ক্যাসেল গত কয়েক বছর ধরে মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গত এপ্রিলে কর ফাঁকির অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলায় মন্টসেরাটের আদালতে ক্যাসেল ও হিউজ অভিযোগ স্বীকার করেন।
২০১১ সালের ঘুষ কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়েছিলেন
ভিনসেন্ট ক্যাসেল ও তানদিকা হিউজের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। ২০১১ সালে ফিফার তৎকালীন স্বাধীন নৈতিকতা কমিটির তদন্ত ও বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা।
সেই সময় ফিফা সভাপতি নির্বাচনে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মামের বিরুদ্ধে ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় প্রতি কর্মকর্তাকে ৪০ হাজার ডলার করে দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে ক্যাসেল ও হিউজের নামও জড়িয়েছিল।
মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালকও নিষিদ্ধ
মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আকিলকেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা। তাঁকে ১০ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
ফিফার অভিযোগ, সংস্থার তহবিল অপব্যবহারের বিষয় গোপন করতে এবং তাতে সহায়তা করতে ভূমিকা রেখেছেন আকিল। এ ছাড়া ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা বিষয়ক তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মন্টসেরাটে জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিটি
ক্যাসেল ও হিউজের বিদায়ের পর মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ করে ফিফা।
ফিফা তখন জানিয়েছিল, ‘নজিরবিহীন সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতার’ কারণে সংগঠনটির দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি তদারকির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফিফার বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে পাওয়া রাজস্বের অংশ হিসেবে মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবছর অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার যোগ্য। ফলে সংস্থাটির অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ফিফা।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সর্বশেষ এই শাস্তিগুলো ফিফার তহবিল ব্যবস্থাপনা ও সদস্য সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে তাদের কঠোর অবস্থানকেই সামনে এনেছে।














