দুই হাত নেই, তবু পায়ে সাঁতরে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার গোকেল
- 1
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 2
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 3
আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ঘিরে ধরেছিলেন বিক্ষোভকারীরা
- 4
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’
- 5
১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন

দুই হাত নেই, তবু পায়ে সাঁতরে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার গোকেল
দুই হাত নেই, তবু পায়ে সাঁতরে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার গোকেল
জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পানিতে সাঁতার কাটার জন্য তাই হাতের বদলে শুধু দুই পায়ের ওপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতাকে কখনোই নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি অস্ট্রেলিয়ার কেরি–লি গোকেল। এবার শুধু পায়ের সাহায্যে সাঁতার কেটে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড।
২০২৫ সালের ২১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ইয়েপুন উপকূলের কাছে গ্রেট কেপেল দ্বীপের চারপাশে সাঁতার কাটেন গোকেল। স্থানীয়ভাবে দ্বীপটি ‘ওয়পা’ নামে পরিচিত। সব মিলিয়ে তিনি পাড়ি দেন ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিবন্ধিতা শ্রেণি এএ৩–এর আওতায় এটিই এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম সাঁতার।
এএ৩ শ্রেণির সাঁতারুরা প্রয়োজন অনুযায়ী ভেসে থাকার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন এবং নিরাপত্তার জন্য সহায়তাও নিতে পারেন। গোকেলের সাঁতারের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরেক সাঁতারু জোয়েপ বুইস। জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার পাশাপাশি পানির মধ্যেই গোকেলকে খাবার ও পানীয় সরবরাহ করেছেন তিনি।
দুই হাত না থাকায় গোকেলকে চিত হয়ে সাঁতার কাটতে হয়। পানিতে এগিয়ে যাওয়া ও শরীর ভাসিয়ে রাখার পুরো কাজটাই করেন পায়ের সাহায্যে। ‘অ্যামেলিয়া’ নামের একটি বংশগত শারীরিক অবস্থার কারণে দুই হাত ছাড়াই জন্মেছিলেন তিনি।
বর্তমানে কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকারের অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক দপ্তরে চাকরি করেন গোকেল। সাঁতারের জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে।
২০০৫ সালে তাঁর সাঁতারের প্রশিক্ষক জেমস তাঁকে উন্মুক্ত জলাধারে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেন। তার আগে কয়েক বছর স্থানীয় সুইমিংপুলে প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে অংশ নিয়েছিলেন গোকেল। ওই বছরের জুনে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত পানিতে এক কিলোমিটার সাঁতার কাটেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে খোলা পানিতে সাঁতারের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তাঁর সাঁতারের দূরত্বও। ২০২২ ও ২০২৩ সালে দুটি ১০ কিলোমিটার সাঁতারে অংশ নেন গোকেল। ২০২৪ সালে স্বামী পলের সঙ্গে গ্রেট কেপেল দ্বীপের চারপাশেও সাঁতার কাটেন তিনি। তবে সেটি ছিল ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ—দুজন পালা করে এক কিলোমিটার করে সাঁতার কেটেছিলেন।
কিন্তু ২০২৫ সালের ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটারের সাঁতার ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার পরীক্ষা। এর আগে তিনটি ১০ কিলোমিটার সাঁতার এবং ১৫ কিলোমিটারের একটি প্রশিক্ষণ সাঁতার শেষ করে নিজেকে এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘ এই সাঁতার শেষ করার পর গোকেল জানিয়েছেন, চ্যালেঞ্জ কঠিন হলেও ভালো পরিকল্পনা, কঠোর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির কারণে পুরো বিষয়টি তাঁর কাছে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে। সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল নিজের ওপর বিশ্বাস ও দৃঢ়তা।














