তরুণদের নিয়ে আনচেলত্তির নতুন ব্রাজিল, বদলের শুরু গোলপোস্ট থেকেই
- 1
১৯৮০–৮৩ সালের early-1980s fashion, photography ও vintage aesthetic ধরতে নিচের ৫টি বাংলা প্রম্পট ব্যবহার করতে পারেন।
- 2
হলান্ডের জোড়া গোলে পোর্তোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির দুর্দান্ত শুরু
- 3
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াসিম আকরাম, ‘সুচিকিৎসায় কোনো আপস নয়’
- 4
ব্যালন ডি’অর জিতবেন পিএসজির কেউ, দেম্বেলের পছন্দের শীর্ষ তিনে এমবাপ্পে
- 5
ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় কাজ হারাচ্ছেন অস্কারজয়ী সুজান সারান্ডন

তরুণদের নিয়ে আনচেলত্তির নতুন ব্রাজিল, বদলের শুরু গোলপোস্ট থেকেই
তরুণদের নিয়ে আনচেলত্তির নতুন ব্রাজিল, বদলের শুরু গোলপোস্ট থেকেই
ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে নতুন মুখ আটজন। দলের গড় বয়স ২৪.৪ বছর। বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর কার্লো আনচেলত্তির সর্বশেষ দল দেখেই স্পষ্ট—ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণদের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন ইতালিয়ান কোচ।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর এটাই আনচেলত্তির প্রথম স্কোয়াড। বিশ্বকাপের পর দল ঢেলে সাজানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়নও শুরু করেছেন তিনি। সর্বশেষ বিশ্বকাপের দল থেকে এবার বাদ পড়েছেন ১৫ জন।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন চোখে পড়ছে বয়সের দিক থেকে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দলের গড় বয়স ছিল ২৯ বছর ৬ মাস ২৯ দিন, যা বিশ্বকাপে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এবার সেই জায়গা থেকে সরে এসে আনচেলত্তি গুরুত্ব দিচ্ছেন তরুণদের। তাঁর নতুন দলের গড় বয়স ২৪.৪ বছর।
শুধু বয়সেই নয়, ঘরোয়া ফুটবলের খেলোয়াড়দের ওপরও এবার বাড়তি আস্থা রেখেছেন ব্রাজিল কোচ। গত বিশ্বকাপের দলে ব্রাজিলের ঘরোয়া ক্লাব থেকে ছিলেন মাত্র চারজন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০—গত ১৩ বছরে যা সর্বোচ্চ। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ মে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে ঘরোয়া ফুটবলের ১১ খেলোয়াড়কে রেখেছিলেন তৎকালীন কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি।
পরিবর্তনের শুরুটা হয়েছে গোলপোস্ট থেকেই। তিন গোলরক্ষকের সবাই নতুন মুখের মতো। হুগো সউজা জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। অন্যদিকে ওতাভিও ও পেদ্রো মরিসকো এখনো অভিষেকের অপেক্ষায়। জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকারের।
তবে আলিসনকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার কথা বলছেন না আনচেলত্তি। তাঁর ভাষায়, আলিসনকে তিনি ভালোভাবেই চেনেন। ভবিষ্যতে বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে যদি তিনি দলের সেরা গোলরক্ষক থাকেন, তাহলে অবশ্যই সুযোগ পাবেন। আপাতত তরুণদের পরীক্ষা করাই তাঁর লক্ষ্য।
অভিজ্ঞতার ছাঁটাই দেখা গেছে মাঝমাঠেও। ফাবিনিও ও কাসেমিরোর মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা এবার দলে নেই। নতুনদের মধ্যে সুযোগ পেয়েছেন আর্থার দিয়াস ও মাউরো জুনিয়র। তবে তরুণদের পাশে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রাখতে ব্রুনো গিমারায়েস ও মার্কিনিওসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের রেখেছেন আনচেলত্তি।
ব্রাজিল কোচের পরিকল্পনাটা আরও পরিষ্কার তাঁর নিজের কথাতেই। মার্কিনিওস, গাব্রিয়েল, ব্রুনো, রাফিনিয়া ও ভিনিসিউস জুনিয়রকে রেখে তিনি মূলত তরুণদের সামনে পথ দেখানোর মতো কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রাখতে চাইছেন। তাঁর মতে, এসব খেলোয়াড় ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তরুণদের উন্নতিতে সহায়তা করবেন।
তবে আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাই একমত নন। ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা মনে করেন, কোনো খেলোয়াড় জাতীয় দলে অবদান রাখার মতো অবস্থায় থাকলে শুধু বয়সের কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
জবাবে আনচেলত্তি নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন। তাঁর মতে, ৩৪ বা ৩৫ বছর বয়সী কোনো খেলোয়াড় ভবিষ্যতের ভিত্তি নন, তাঁরা বর্তমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেই বয়সের কেউ বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত থাকলে অবশ্যই দলে সুযোগ পাবেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তরুণদের তৈরি করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
এই পরিকল্পনায় বিশেষ নজরে থাকতে পারেন করিন্থিয়ান্সের ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ব্রেনো বাইডন। ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা এই তরুণকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মানসম্পন্ন মিডফিল্ডারের খোঁজে থাকা আনচেলত্তিও এই পজিশনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে মাউরো জুনিয়রের অন্তর্ভুক্তিও কিছুটা চমক। আনচেলত্তি নিজেই স্বীকার করেছেন, এই ফুলব্যাককে তিনি এখনো খুব ভালোভাবে চেনেন না। তবে ইউরোপের বিভিন্ন ফুলব্যাককে পরখ করার অংশ হিসেবে মাউরোকে কাছ থেকে দেখতে চান তিনি।
ব্রাজিলের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে নিজেদের নতুন দলটিকে পরীক্ষা করার সুযোগ। ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিলের স্কোয়াড:
গোলকিপার: হুগো সউজা, পেদ্রো মরিসকো, ওতাভিও।
ডিফেন্ডার: আর্থার দিয়াস, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল মাগালায়েস, জাইর, মার্কিনিওস, মাথেউজিনিও, মাউরো জুনিয়র, ভিতর রেইস, ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: আন্দ্রে সান্তোস, ব্রেনো বাইডন, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সান্তোস, দগলাস লুইস, গাব্রিয়েল বোন্তেম্পো।
ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রো, পেদ্রো, রাফিনিয়া, রায়ান, স্যামুয়েল লেনো ও ভিনিসিউস জুনিয়র।














