Image

‘তুমি অমর’—মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন মার্তিনেজ, দি পল ও সতীর্থরা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 13 ঘন্টা আগেআপডেট: 8 মিনিট আগে
‘তুমি অমর’—মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন মার্তিনেজ, দি পল ও সতীর্থরা

‘তুমি অমর’—মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন মার্তিনেজ, দি পল ও সতীর্থরা

‘তুমি অমর’—মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন মার্তিনেজ, দি পল ও সতীর্থরা

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাঁর সতীর্থরা। কারও কাছে তিনি অধিনায়ক, কারও কাছে বন্ধু, আবার কারও কাছে ফুটবলের সর্বকালের সেরা। তাই মেসির বিদায়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।

৩৯ বছর বয়সী মেসি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার এখানেই সমাপ্তি। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ঘোষণার পর আর্জেন্টিনা দলের বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও গভীর আবেগ।

আর্জেন্টিনার তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না প্রিয় অধিনায়কের বিদায়। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘না, লিওওও। তোমার দেওয়ার মতো আরও অনেক কিছু বাকি আছে।’

আরেক সতীর্থ এনজো ফার্নান্দেজ ফিরে গেছেন ২০১৬ সালে, যখন প্রথমবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে এনজো লিখেছেন, ‘লিও, তুমি যখন জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলে, তখন আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম। তোমার সঙ্গে কখনো একই দলে খেলতে পারব কি না, সেটি বুঝতে তোমার বয়সের সঙ্গে নিজের বয়স মিলিয়ে হিসাব করতাম।’

এনজো আরও লিখেছেন, ‘কথাটা হয়তো বোকার মতো শোনাতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই তা-ই করতাম। ভাগ্য ভালো যে তুমি ফিরে এসেছিলে। আমি শুধু তোমার সঙ্গে খেলার সুযোগই পাইনি, আমরা একসঙ্গে ক্যাম্প করেছি, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করেছি, কঠিন সময় পার করেছি এবং অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি। সবশেষে আমরা একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

মেসিকে ছাড়া ভবিষ্যতের জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করাও কঠিন বলে জানিয়েছেন এনজো। তিনি লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্পের কথা ভাবাই কঠিন। মাঠে তোমাকে আর ১০ নম্বর জার্সি পরতে না দেখাটা এত বছর ধরে অভ্যস্ত চোখের কাছে প্রায় অসম্ভব মনে হয়। ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজও আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন, মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ তাঁর জানা নেই।

লাওতারো লিখেছেন, ‘লিও, তুমি আমাদের জন্য যা করেছ, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো যথেষ্ট শব্দ আমার জানা নেই। মাঠে তোমার অর্জনের বাইরেও, মাঠের বাইরে তুমি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কখনো হার না মানা, প্রতিটি হোঁচটের পর আবার উঠে দাঁড়ানো, নীরবে কাজ করে যাওয়া এবং সবকিছুর ওপরে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা—এসব শিক্ষা আমি সব সময় মনে রাখব। তোমার নেতৃত্ব শুধু গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা শিরোপার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তুমি আমাদের জন্য যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছ, সেটিই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

আর্জেন্টিনা দলে মেসির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন এবং তাঁর ‘দেহরক্ষী’ হিসেবে পরিচিত মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলের বার্তাটি ছিল আরও আবেগপূর্ণ।

দি পল লিখেছেন, ‘দেশের প্রতি তোমার ভালোবাসা, কখনো হার না মানার মানসিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি এবং প্রতিটি মানুষের প্রতি তোমার মানবিকতা—সবকিছুর জন্য শুধু ধন্যবাদ।’

এরপর মেসিকে সর্বকালের সেরা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সর্বকালের সেরা, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না যে আমাদের মুখে কত হাসি ফুটিয়েছ। তুমি অমর।’

মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আনহেল দি মারিয়ার বিদায়ী বার্তা ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর—‘চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক।’

আর্জেন্টিনা দলের মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তের জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে করলেও বাস্তবে মেসির বিদায় মেনে নেওয়া কঠিন।

পারেদেস লিখেছেন, ‘ভেবেছিলাম, এই খবরের জন্য আমি প্রস্তুত। কিন্তু স্পষ্টতই আমি প্রস্তুত নই। একজন আর্জেন্টাইন, জাতীয় দলের সমর্থক, একজন সতীর্থ এবং একজন বন্ধু হিসেবে তুমি আমার জন্য যা করেছ, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’

মেসির ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘তোমার সম্পর্কে বলতে গেলে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলি। তোমার অবদান এবং খেলোয়াড় হিসেবে মহানুভবতার কথা তো আছেই, কিন্তু সবার ওপরে একজন মানুষ হিসেবে তুমি অসাধারণ।’

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসি ছিলেন একটি যুগের নাম। তাঁর বিদায়ে তাই শুধু একজন ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়, শেষ হলো আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সোনালি এক অধ্যায়ও।

তবে সতীর্থদের কথাতেই স্পষ্ট—মেসি মাঠ থেকে বিদায় নিলেও তাঁদের স্মৃতি, ভালোবাসা এবং আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে তিনি থাকবেন চিরকাল। দি পলের ভাষাতেই হয়তো সবচেয়ে ভালোভাবে বলা যায়—‘সর্বকালের সেরা, তুমি অমর।’

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three