Image

কেন হঠাৎ অবসর নিলেন মেসি, সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যে কারণগুলো

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
কেন হঠাৎ অবসর নিলেন মেসি, সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যে কারণগুলো

কেন হঠাৎ অবসর নিলেন মেসি, সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যে কারণগুলো

কেন হঠাৎ অবসর নিলেন মেসি, সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যে কারণগুলো

জাতীয় দল থেকে একদিন না একদিন বিদায় নিতেই হতো লিওনেল মেসিকে। বয়স এখন ৩৯। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন তিনি। তবু গতকাল তাঁর অবসরের ঘোষণা অনেকের কাছেই এসেছে বড় চমক হয়ে। কারণ, ঘোষণার আগপর্যন্ত কেউই আঁচ করতে পারেনি যে এত দ্রুত জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

তবে মেসির অবসর ঘোষণার পর তাঁর সাম্প্রতিক কথাবার্তা ও ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে দেখলে সিদ্ধান্তটির পেছনের কারণগুলো কিছুটা পরিষ্কার হয়।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের ৪৩ দিন আগেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেসি। পরে সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয় বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং বাবার মৃত্যুর পর।

নিজের অবসরবার্তায় মেসি লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার ঘটনার পর আজ আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগেই অবসরের চিন্তা মাথায় নিয়েছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হারের পর সেই সিদ্ধান্ত আরও পাকা হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ঘটনা তাঁকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে বলে জানিয়েছে লা নাসিওন।

বিশ্বকাপের আগেও জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মেসি। বাবাকে হারানোর পর তিনি জানিয়েছিলেন, শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। সতীর্থদের কথাতেও মিলেছে অবসরের ইঙ্গিত। গত ২৫ আগস্ট লিয়ান্দ্রো পারেদেস বলেছিলেন, মেসি সম্ভবত জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন।

পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’

মেসির নিজের অবসরবার্তার কথাও যেন সেই ধারণাকেই আরও শক্ত করে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। তা ছাড়া পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের জাতীয় দলে থাকাটা প্রাপ্য।’

বিশ্বকাপ ফাইনালটিও হয়তো তাঁর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল। ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে এমন একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা মেসির মনে হয়তো প্রশ্ন তুলেছে—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর আর কতটা দেওয়ার আছে?

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মও উঠে আসছে। নিকো পাজ, থিয়াগো আলমাদাসহ তরুণদের জায়গা করে দেওয়ার সময় এসেছে। মেসির অবসরবার্তার ‘আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়’ কথাটিও সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়ের হিসাব। বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর। এর আগেই অবসর ঘোষণা করেছেন মেসি। অর্থাৎ চার বছরের নতুন বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে আর দেখা যাবে না—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। লা নাসিওনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বকাপ রানার্সআপ দল এবং মেসিকে সম্মান জানাতে বুয়েনস এইরেসে বিশেষ বিদায়ী আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। ফলে জাতীয় দলের হয়ে অন্তত আরও একটি ম্যাচে তাঁকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মেসির সিদ্ধান্তে বাবার মৃত্যুও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর লিওনেল বলেছিলেন, ‘আমি আর কত দিন ফুটবল চালিয়ে যাব, এখন তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’

এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা দলও এখন প্রজন্ম বদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শেষের পথে। কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থদের নিয়ে গড়ে ওঠা দলটিও ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।

আর আর্জেন্টিনা সহ-আয়োজক হিসেবে ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করায় দীর্ঘ বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। সে হিসেবে জাতীয় দলের পরবর্তী বড় লক্ষ্য ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করে নিজের ক্যারিয়ারকে আরও দীর্ঘ করতে চাননি।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনেকেই চেয়েছিলেন, মেসি অন্তত কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলুন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ স্মৃতিটা যেন কোনো হেরে যাওয়া ফাইনাল না হয়—এমন প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু মেসি বরাবরই নিজের সামর্থ্য ও শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে বাস্তববাদী।

অবসরবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি।’

হয়তো এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় কারণ। আর্জেন্টিনার হয়ে যা দেওয়ার ছিল, সবটুকুই দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা—সব বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন হয়তো মনে হয়েছে, নিজের সেরাটা আর নিশ্চিতভাবে দিতে পারবেন না।

তাই মেসির কাছে অবসর মানে পালিয়ে যাওয়া নয়; বরং মনে হয়েছে, জাতীয় দলকে দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি না থাকতেই সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three