অশ্রুসিক্ত বিদায়: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় বললেন লিওনেল মেসি
- 1
আর্চার-টাংদের পেস আক্রমণে ২০০৫ অ্যাশেজজয়ী দলের ছায়া দেখছেন ট্রেসকোথিক
- 2
‘তুমি অমর’—মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন মার্তিনেজ, দি পল ও সতীর্থরা
- 3
অশ্রুসিক্ত বিদায়: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় বললেন লিওনেল মেসি
- 4
এমবাপ্পের গোলে রিয়ালের জয়
- 5
নতুন পে স্কেলে এমপিও শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

অশ্রুসিক্ত বিদায়: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় বললেন লিওনেল মেসি
অশ্রুসিক্ত বিদায়: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় বললেন লিওনেল মেসি
অবশেষে এল সেই আবেগঘন মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি।
নিজের ফেসবুক পেজে আজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এত দিন সময় যাওয়ার পর অনেক ভেবেচিন্তে আমি আপনাদের সবাইকে জানাতে চাই যে আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি…।’
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর থেকেই জাতীয় দল থেকে মেসির অবসরের গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন তিনি। নিজের অনুভূতি ও চিন্তাগুলো তখন একটি খাতায় লিখেও রেখেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সেই খাতার ছবিও প্রকাশ করেন মেসি। পোস্টের শেষের দিকে তিনি জানান, ‘এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আজ আমার বাবার ঘটনার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’
গত ৮ আগস্ট বাবাকে হারানোর পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও দৃঢ় হন মেসি। ব্যক্তিগত জীবনের এই গভীর শোকের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের অধ্যায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অবসরের সিদ্ধান্তটি যে তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল, সেটিও স্পষ্ট করেছেন মেসি। তিনি লিখেছেন, ‘এটি এমন এক সিদ্ধান্ত, যা আমার আত্মাকে ব্যথিত করেছে এবং এখনো করছে। তবে আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়। আমি আপনাদের কসম কেটে বলছি, সব সময় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি—শুধু গত কয়েক বছরে যা কিছু জিতেছি তখন নয়, তার আগেও।’
আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি লিখেছেন, ‘এই জার্সির জন্য, আপনাদের আনন্দ দিতে এবং ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্ব বোধ করানোর জন্য আমি সব সময় লড়াই করেছি এবং সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছি।’
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল মেসির। দীর্ঘ এই ২১ বছরের যাত্রায় সাফল্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় শুরু হয় ২০২১ সাল থেকে। ২০২১ থেকে ২০২৪—মাত্র চার বছরের ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে তিনি এনে দেন দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপের শিরোপা।
তবে জাতীয় দলের পথচলা সব সময় এতটা আনন্দের ছিল না। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারার কারণে নানা সমালোচনা শুনতে হয়েছে মেসিকে। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হারের পর অভিমানে একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদলে আবারও জাতীয় দলে ফিরে আসেন মেসি। আর ক্যারিয়ারের শেষভাগে একে একে পূরণ করেন সব অপূর্ণতা, জিতে নেন সেই সব শিরোপা, যেগুলোর জন্য তাঁকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।
সর্বশেষ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছিলেন মেসি। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি তিনি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যান ফাইনালে। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ।
নিজের বিদায়ী বার্তায় মেসি লিখেছেন, ‘সময় খুব অল্প বাকি আর এভাবে একেকটি অধ্যায় শেষ হয়ে যায়; এটি তেমনই একটি অধ্যায়, যা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি জাতীয় দলের অংশ হতে সব সময় ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং ভালোবেসে যাব। নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি, আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই।’
পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। মেসির ভাষায়, ‘পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের জাতীয় দলে থাকাটা প্রাপ্য।’
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ। করেছেন ১২৫ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৮টি গোল। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোল করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
দীর্ঘ এই পথচলার শেষে মেসির বিশ্বাস, আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের জন্য জাতীয় দলে জায়গা করে দিতেও চান তিনি।
পরিবার, সতীর্থ ও কোচদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি। তিনি লিখেছেন, ‘আমার পরিবারকে সব সময় পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ, এত সুন্দর কিন্তু কঠিন একটি যাত্রায় আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য। যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি আর মুহূর্ত সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।’
সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে আপনাদের স্বপ্নের মতো কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পারার শান্তি আর গর্ব নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে বেঁচে থাকা সত্যিই এক উন্মাদনার মতো ছিল। সবাইকে ভালোবাসি!’
সবশেষে মেসির দুটি বাক্য আবেগে ভাসিয়েছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের—‘আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভামোস আর্জেন্টিনা!’













