Image

সিরিজের মাঝপথে কোচ ছাঁটাই, ৭ ক্রিকেটার বাদ—পাকিস্তান ক্রিকেটে কী চলছে!

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 3 সেকেন্ড আগে
সিরিজের মাঝপথে কোচ ছাঁটাই, ৭ ক্রিকেটার বাদ—পাকিস্তান ক্রিকেটে কী চলছে!

সিরিজের মাঝপথে কোচ ছাঁটাই, ৭ ক্রিকেটার বাদ—পাকিস্তান ক্রিকেটে কী চলছে!

সিরিজের মাঝপথে কোচ ছাঁটাই, ৭ ক্রিকেটার বাদ—পাকিস্তান ক্রিকেটে কী চলছে!

টেস্ট সিরিজের মাঝপথে কোচ বরখাস্ত, একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং তাঁদের জায়গায় নতুন সাতজনকে দলে নেওয়া—পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন নাটকীয় পরিবর্তন যেন কিছুতেই থামছে না। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, নতুন করে দলে আসা সাত ক্রিকেটারের পাঁচজনেরই এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি।

মাত্র ছয়টি টেস্টের পরই প্রধান কোচের দায়িত্ব হারিয়েছেন সরফরাজ আহমেদ। অথচ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

চলতি বছরের মার্চে অবসর নেওয়ার কয়েক মাস আগে, গত নভেম্বরে সরফরাজকে পাকিস্তান শাহিনস ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল খেলোয়াড়দের উন্নয়ন, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা খুঁজে বের করা ও গড়ে তোলা।

এরপর গত ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে তাঁকে পরামর্শক হিসেবে পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সরফরাজের ওপর আস্থাও বাড়ে পিসিবির। সেই ধারাবাহিকতায় মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাঁকে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ছয় টেস্ট না পেরোতেই সেই অধ্যায়েরও সমাপ্তি।

শুধু কোচিং স্টাফ নয়, ক্রিকেটারদের নিয়েও পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছে বিস্ময়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আগা পরের টেস্টেই বাদ পড়েছেন। এবার তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো সাত ক্রিকেটারের তালিকাতেও রাখা হয়েছে। অথচ মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

আরও বিস্ময়কর আলী উসমানের ঘটনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্টে ছয় উইকেট নেওয়ার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে সুযোগ পেয়েই এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। প্রস্তুতি ম্যাচেও পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

লর্ডস টেস্টে অবশ্য মাত্র এক উইকেট পাওয়ায় এবার তাঁকেও দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অথচ সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড চার পেসার নিয়ে খেলেছে এবং পুরো ম্যাচেই পেসারদের দাপট ছিল। এমন পরিস্থিতিতে একজন স্পিনারের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করা কতটা যৌক্তিক, সেটিই এখন প্রশ্ন।

পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে ক্রিকেট বিশ্বেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, পাকিস্তান এত পরিবর্তন করছে এবং খেলোয়াড়দের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে—এটা তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না।

পাকিস্তানের সাবেক কোচ মিকি আর্থারও সিদ্ধান্তটিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, নিয়মিত খেলোয়াড়, কোচ ও নির্বাচক পরিবর্তনের কারণেই পাকিস্তান ক্রিকেটে কোনো স্থিতিশীলতা নেই।

সাবেক পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, জাতীয় দলের হয়ে খেলা ক্রিকেটারদের সফরের মাঝপথে ‘প্রথম ফ্লাইটে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া’ অসম্মানজনক। তাঁর প্রশ্ন—জবাবদিহি কেন ক্রিকেটারদের দিয়ে শুরু হবে, যাঁরা হয় বেঞ্চে ছিলেন, নয়তো মাত্র দুই-তিনটি টেস্ট খেলেছেন? বরং পুরো সিস্টেমের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির প্রশ্ন আরও বড়। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে একটি টেস্টের জন্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। একই সঙ্গে মাত্র ছয়টি টেস্টের পর কোচ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন প্রশ্ন একটাই—দলের ব্যর্থতা কাটাতে কি সত্যিই এত দ্রুত এত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, নাকি বারবার সিদ্ধান্ত বদলই তাদের সংকট আরও গভীর করছে?

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three