Image

ইমামের চোট নিয়ে সন্দেহ, তদন্তের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি আকিবের

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
ইমামের চোট নিয়ে সন্দেহ, তদন্তের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি আকিবের

ইমামের চোট নিয়ে সন্দেহ, তদন্তের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি আকিবের

ইমামের চোট নিয়ে সন্দেহ, তদন্তের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি আকিবের

লর্ডস টেস্টের একাদশে ছিলেন পাকিস্তানের বাঁহাতি ওপেনার ইমাম-উল-হক। কিন্তু ম্যাচের দুই ইনিংসেই তাঁকে ব্যাটিংয়ে দেখা যায়নি। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল, বাঁ পায়ের পেশিতে চোট পেয়েছেন তিনি। তবে ইমামের এই চোট নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। এবার সেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ। শুধু সন্দেহ প্রকাশ করেই থামেননি, বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন সাবেক এই পেসার।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিও’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আকিব বলেছেন, ইমামের ঘটনায় তিনি ‘গভীরভাবে হতাশ’। তাঁর দাবি, পেশিতে টান লাগার কারণে একজন ব্যাটসম্যান দুই ইনিংসেই পুরোপুরি ব্যাটিং থেকে ছিটকে যাবেন—বিষয়টি তাঁর কাছে সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

আকিব বলেন, ‘ইমামের চোট নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে এবং আমি গভীরভাবে হতাশ। অতীতে খেলোয়াড়রা চোট পেয়েও প্লাস্টার করে মাঠে নামার চেষ্টা করেছে। আমরা এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেব। পেশিতে টান লাগার কারণে কীভাবে দুই ইনিংসেই ব্যাট করা থেকে পুরোপুরি ছিটকে যাওয়া সম্ভব? তার চেষ্টা করা উচিত ছিল, লড়াই করা উচিত ছিল। তাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।’

লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর কয়েক মিনিট আগে ইমামের চোটের বিষয়টি জানায় পিসিবি। জানানো হয়, তাঁর বাঁ পায়ের পেশিতে চোট রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করবে।

তবে চতুর্থ দিনের সকালে দলের অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখা যায় ইমামকে। এরপরই তাঁর চোট নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ে। ধারাভাষ্যের সময় ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড ইমামের অনুশীলনকে ‘লোকদেখানো’ বলে মন্তব্য করেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমালোচনা করেন।

লর্ডস টেস্টে বড় হারের পর পাকিস্তান দলেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ইমামসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দলের পারফরম্যান্স ও একাদশ নির্বাচন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আকিব। তাঁর মতে, পাকিস্তানের হাতে পেস বোলিং অলরাউন্ডার, দ্বিতীয় উইকেটকিপার এবং তরুণ ফাস্ট বোলার উবায়েদ শাহ থাকলেও তাঁদের যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি।

‘দুটি টেস্ট হয়ে গেছে, কিন্তু কোনোভাবেই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। এখনো একটি টেস্ট বাকি। তাদের কাছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার, দ্বিতীয় উইকেটকিপার এবং উবায়েদ শাহর মতো একজন ফাস্ট বোলারও ছিল। কিন্তু তাদের খেলানো হয়নি,’ বলেন আকিব।

দল গঠন নিয়েও তাঁর আপত্তি রয়েছে। আকিব মনে করেন, প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের কেউ বোলিং না করায় দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারা উবায়েদ শাহকে খেলানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বেও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা কেভিন পিটারসেন একে অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেছেন। সাবেক কোচ মিকি আর্থার বলেছেন, নিয়মিত কোচ, অধিনায়ক ও খেলোয়াড় পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেটে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব মালিকও সফরের মাঝপথে খেলোয়াড়দের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

তবে এত পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের পদ ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই আকিবের। তাঁর দাবি, দল গঠনের সময় কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের দায় থাকে। কিন্তু সফরে যাওয়ার পর মাঠে সঠিক সমন্বয় না হলে অধিনায়ক ও কোচকেও নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে।

নতুন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের ওপরও আস্থা প্রকাশ করেছেন আকিব। তাঁর মতে, কোচ ও অধিনায়ককে একসঙ্গে কাজ করে পাকিস্তান ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড় করাতে হবে।

‘একজন মানুষ একটি দল চালায় না। কোচ ও অধিনায়ক একসঙ্গে দল পরিচালনা করেন। মাইক হেসন দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা তাকে সবদিক থেকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করব। বাবর ও মাইক কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে, সেটি দেখা যাক,’ বলেন আকিব।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামের এজবাস্টনে। তার আগে পাকিস্তান দলে ব্যাপক পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত কতটা কাজে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three