পাঁচ বছরেও নারীদের টেস্টের প্রস্তুতি নেই, অপেক্ষা আরও দীর্ঘ
- 1
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে লারার উদ্বেগ, ‘প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করুন’
- 2
‘ভয় নিয়ে খেলছে পাকিস্তান’, আকিব জাভেদকে আয়নায় মুখ দেখার পরামর্শ গিলেস্পির
- 3
এমবাপ্পে-রোনালদোকে পেছনে ফেলে ৩০০ গোলের মাইলফলকে হালান্ড
- 4
ইংল্যান্ডে ভরাডুবির পর পাকিস্তান দলে বড়সড় পরিবর্তন, বাদ পড়ার নেপথ্যে পারফরম্যান্সের সঙ্গে আচরণও
- 5
অবশেষে গোপন প্রেম প্রকাশ্যে, সিদ্ধার্থ নিগমের প্রেমিকা রিয়া ঠাক্কার

পাঁচ বছরেও নারীদের টেস্টের প্রস্তুতি নেই, অপেক্ষা আরও দীর্ঘ
পাঁচ বছরেও নারীদের টেস্টের প্রস্তুতি নেই, অপেক্ষা আরও দীর্ঘ
ছেলেদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণার দিনই নারী ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পারিশ্রমিক বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নারী দলকে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। তবে নারী ক্রিকেটারদের হতাশা, এমন প্রতিশ্রুতি তাঁরা শুনে আসছেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে।
২০২১ সালের এপ্রিলে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর নারী দলকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়া হলেও বাংলাদেশ এখনো সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। মর্যাদা থাকলেও মাঠে টেস্ট খেলার প্রস্তুতি কিংবা নিয়মিত দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট—দুটোরই ঘাটতি স্পষ্ট।
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের টুর্নামেন্ট হয়েছে মাত্র দুটি। ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল উইমেন্স বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ, যেখানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিন দল দুই দিনের ম্যাচ খেলেছিল। দুই দিনের ম্যাচ হওয়ায় সেই প্রতিযোগিতা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পায়নি।
এরপর গত বছরের শুরুতে চার অঞ্চল নিয়ে আয়োজিত হয় নারী বিসিএল। সেখানে ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছিল, ফলে প্রতিযোগিতাটি দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এরপর আবার দীর্ঘ বিরতিতে পড়ে যায় নারী ক্রিকেটারদের এমন ম্যাচ খেলা।
নারী দলের সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদের মতে, টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার বিষয়টি হতাশাজনক।
তিনি বলেন, ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দর ও চ্যালেঞ্জিং সংস্করণ টেস্ট। যেকোনো ক্রিকেটারের কাছেই এটি স্বপ্নের। কিন্তু টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার এত বছর পরও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এ নিয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদও মনে করেন, দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ না খেললে ক্রিকেটাররা টেস্টের জন্য প্রস্তুত কি না, সেটি মূল্যায়ন করাও কঠিন। টেস্ট ক্রিকেটের সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা, মানসিকতা ও কৌশল আয়ত্ত করতে নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বিকল্প নেই।
ফিটনেসও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। রুমানার মতে, চার দিনের ক্রিকেট খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা তৈরি করতে হলে ক্রিকেটারদের নিয়মিত দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলতে হবে। প্রায় দুই বছর এমন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলে সেই প্রস্তুতি গড়ে তোলা কঠিন।
তবে বিসিবি এখন নারী ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী বছরের এপ্রিলে তিন দিনের নারী বিসিএল আয়োজনের প্রাথমিক চিন্তা রয়েছে। প্রতিযোগিতার ম্যাচসংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পুরুষ দলের টেস্ট সাফল্যও নারী ক্রিকেটে এই সংস্করণ চালুর আগ্রহ বাড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ২০২৮ সালে বাংলাদেশ নারী দলের প্রথম টেস্ট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানের নামও আলোচনায় এসেছে এবং এ বিষয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বাস্তবতা হলো, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নারী দলের অভিষেক এখনো বেশ দূরের পথ। আগে নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, পর্যাপ্ত ম্যাচ, উন্নত ফিটনেস ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির কাঠামো তৈরি করতে হবে। তাই টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পাঁচ বছর পরও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটির জন্য অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।















