তিন ম্যাচেই ৩ গোল, লিভারপুলে অবশেষে স্বরূপে ফিরেছেন ইসাক
- 1
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে তদন্তে আসেনসিও, রিয়ালের কড়া বার্তা
- 2
‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কে ইতি! মেসির ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কেন উঠল এমন বার্তা?
- 3
বিশ্বকাপের হারের প্রতিশোধের সুযোগ জাপানের, নভেম্বরে ব্রাজিলের মুখোমুখি
- 4
মরিনিওর চোখে লা লিগাই কঠিন, ‘ফ্রান্স-জার্মানিতে শিরোপার হিসাব সহজ’
- 5
রিয়ালে ফিরে মরিনহোকে শুভকামনা আনচেলত্তির, ‘নিশ্চিত, সে খুব ভালো করবে’

তিন ম্যাচেই ৩ গোল, লিভারপুলে অবশেষে স্বরূপে ফিরেছেন ইসাক
তিন ম্যাচেই ৩ গোল, লিভারপুলে অবশেষে স্বরূপে ফিরেছেন ইসাক
লিভারপুলে আলেকসান্দার ইসাকের প্রথম মৌসুমটা মোটেও প্রত্যাশামতো কাটেনি। ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের ব্রিটিশ রেকর্ড ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে আসা সুইডিশ স্ট্রাইকার গত মৌসুমে ২২ ম্যাচে ১,০৩৩ মিনিট খেলে করেছিলেন মাত্র ৪ গোল। প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ম্যাচে ৭০৩ মিনিটে তাঁর গোল ছিল ৩টি।
তবে নতুন মৌসুমে যেন পুরোপুরি বদলে গেছেন ইসাক। ইপসউইচ টাউনের মাঠ পোর্টম্যান রোডে লিভারপুলের ২-০ গোলের জয়ে দুই গোলই করেছেন তিনি। ম্যাচের ষষ্ঠ ও নবম মিনিটে গোল করে মাত্র ৯ মিনিটের মধ্যেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই স্ট্রাইকার। চলতি মৌসুমে লিগে তিন ম্যাচেই তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৩।
দুই মৌসুম আগে নিউক্যাসলের হয়ে এই পোর্টম্যান রোডেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইসাক। এবারও হ্যাটট্রিকের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে অফসাইডের কারণে তাঁর আরেকটি গোল বাতিল হয়ে যায়।
ইপসউইচের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্সকে গত এক বছরে লিভারপুলের জার্সিতে সবচেয়ে বিধ্বংসী হিসেবে দেখছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমও। শুধু গোল করাই নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই ইসাককে দেখা গেছে আত্মবিশ্বাসী ও আগ্রাসী মেজাজে।
প্রথম গোলটি এসেছে কোডি গাকপোর নিখুঁত পাস থেকে। বক্সে ঢুকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান ইসাক। দ্বিতীয় গোলটি ছিল আরও বেশি পরিণত। অফসাইডের ফাঁদ এড়াতে দৌড়ের গতি নিয়ন্ত্রণ করে বক্সে ঢোকেন তিনি। এরপর গাকপোর ট্রিভেলা পাস পেয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে।
গত মৌসুমে চোটের কারণে নিয়মিত খেলতে পারেননি ইসাক। ভাঙা পা ও পেশির সমস্যায় দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকায় সতীর্থদের সঙ্গে তাল মেলানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল তাঁর জন্য। ফলে লিভারপুলের আরেক স্ট্রাইকার উগো একিতিকের আড়ালে চলে গিয়েছিলেন তিনি।
এবার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। নতুন মৌসুমে শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত ইসাককে তাঁর শক্তির জায়গায় খেলানো হচ্ছে—ডিফেন্ডারদের পেছনে দ্রুত ঢুকে পড়া, বক্সে জায়গা তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা। নিউক্যাসলে যে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে ইউরোপের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সেই চেনা রূপই এখন দেখা যাচ্ছে।
ম্যাচ শেষে ইসাকও স্বীকার করেছেন, লিভারপুলে তাঁর প্রথম মৌসুম ছিল কঠিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের চোট এবং নানা সমস্যার কারণে সময়টা সহজ ছিল না। তবে সেই কঠিন সময় এখন পেছনে ফেলে এসেছেন তিনি।
নতুন মৌসুমের শুরু নিয়ে ইসাকের ভাষ্য, প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতির পর লিভারপুল নিজেদের কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরতে শুরু করেছে। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করাই দলের মূল লক্ষ্য—ইপসউইচের বিপক্ষে সেটিই তারা করে দেখিয়েছে।
১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ইসাককে ঘিরে গত মৌসুমে যে প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন মৌসুমের শুরুতেই তার জবাব দিতে শুরু করেছেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড।















